গ্রাম ভ্রমণঃ দ্বারহাট্টার মনদ্বারিকায়

ভুটান ভ্রমণঃ থিম্পু দেখে পারোয়
January 9, 2025
পন্ডিচেরির ফরাসি ও তামিল ‘কোয়ার্টার’
January 19, 2025

দুটো দিন নিখাদ কোনও গ্রামে কাটিয়ে আসা, বুকে নিষ্কলুষ বাতাস ধারণ করা, গ্রামীণ জীবনকে কাছ থেকে দেখা-জানা এবং প্রাণশক্তি সঙ্গে নিয়ে শহরে ফেরা, কাজে ফেরা এখন ভ্রমণের এক নতুন ধারা। গ্রাম পর্যটন। গ্রাম প্রধান দেশ আমাদের, গ্রাম-পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা। ভারত সরকারও দেশে গ্রাম পর্যটনের (ভিলেজ টুরিজম) ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

আজ এক গ্রামের কথা। হুগলির দ্বারহাট্টা। ছোট্ট গ্রাম। তবে পুরনো গ্রাম। প্রাচীন মন্দিরগুলি সেই সাক্ষ্য দেয়। দিগন্ত পর্যন্ত ধানের খেত, সুফলা সবজির বাগান, নারকোল গাছের আড্ডা, খুব সবুজ দ্বারহাট্টা। প্রচুর জলাশয় রয়েছে গ্রামে। পাখিরও গ্রাম দ্বারহাট্টা। এমন অনেক গ্রাম আছে বাংলায়। তবে নিজস্ব একটা চরিত্র তো থাকেই সব এলাকারই। বাংলায় গ্রাম ভ্রমণের একটা সূচনা ঘটেছে মাত্র। ভ্রমণে উদ্ভাবনায় আগ্রহী কেউ কেউ উদ্যোগী হচ্ছেন এক্ষেত্রে।

দ্বারহাট্টায় আধুনিক নানা সুবিধাসহ থাকা-খাওয়ার সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। নিবিড় গ্রামের মধ্যে সে-ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিনবত্ব। থাকার ব্যবস্থা মনদ্বারিকা ইকো রিসর্টে। গ্রাম পর্যটনের বিকাশ মানে জীবন্ত পরিবেশকে কংক্রিটে মুড়ে দেওয়া নয়। গ্রামীণ পরিবেশের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পুর্যটনের ব্যবস্থাপনা নেওয়া।

মনদ্বারিকা ইকো রিসর্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ-বান্ধব পরিকাঠামোর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। রিসর্টের বাড়িঘর তৈরির মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মাটি ও গাড়ির টায়ার। মনদ্বারিকা টায়ার বাড়ি নামে পরিচিত হয়েছে। গ্রামের শিল্পীরা ঘরের অন্দর-বাহির চিত্রিত করেছেন। রিসর্টের সঙ্গে রয়েছে নার্সারি, সুইমিং পুল। খাওয়ার পাতে পরিবেশিত হয় জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত শাক-সবজির পদ।

কলকাতা থেকে সড়কপথে দ্বারহাট্টার দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। নিকটতম রেল স্টেশন হরিপাল। নিজেদের গাড়ি নিয়ে গেলে কলকাতা থেকে দেড় ঘন্টার পথ।

গ্রামের পথে হাঁটুন, আঞ্চলিক বাজার ঘুরে দেখতে পারেন, প্রাচীন সব মন্দির দেখবেন। পাখি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে পারেন। মাছ ধরতে পারেন। অবিমিশ্র বিশ্রামের সুযোগ তো রয়েছেই।

দ্বারহাট্টা থেকে টেরাকোটা মন্দিরের জন্য খ্যাত আঁটপুর ১২ কিলোমিটার। রাবড়ির গ্রাম আঁইয়া-গাংপুর দ্বারহাট্টা থেকে ১৬ কিলোমিটার। ঘুরেফিরে আসার পরে রাতে রিসর্টে বন ফায়ারের আসর জমতে পারে।

খরচঃ খাওয়াদাওয়া-সহ রাতপ্রতি মাথাপিছু খরচ ২,৫০০ টাকা (এসি)/ ২৩৫০ টাকা (নন-এসি)।

ঠিকানাঃ মনদ্বারিকা ইকো রিসর্ট, দ্বারহাট্টা, হরিপাল, হুগলিঃ ৭১২৪০৩। মনদ্বারিকা ইকো রিসর্টের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরঃ ৯০৫১৮ ৮৮৮১২/ ৯৮৩৬০ ২২৩৪৪।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *