শরতের কাশ্মীর, ঝরা পাতার রূপকথা

হিমাচলের রকছাম
September 3, 2026
তপন কুমার মুখার্জি, শ্রীনগর, (জম্মু-কাশ্মীর)- ফটোগ্রাফির জন্য কাশ্মীর  বছরের যে-কোনও সময়েই এক স্বর্গরাজ্য। তবে শরতের আশ্চর্য রঙিন কাশ্মীরকে ক্যামেরার লেন্সে বা ক্যানভাসে ধরতে চাইলে শরৎ এক  আদর্শ ঋতু। কেন? এ সময়ে উপত্যকার দিক-দিগন্ত জুড়ে চিনারের পাতা ঝরে। বন, বনতল, চলার পথ লাল, সোনালি ও কমলা বর্ণ ধারণ করে। কাশ্মীর উপত্যকার প্রকৃতি এই শরতে রঙের উৎসবে মেতে ওঠে। সে কাশ্মীর উপত্যকার আরেক রূপকথা।
শরৎ ঋতুকে কাশ্মীরের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় ‘হরুদ’। এ সময়ে আবহাওয়া আরামদায়ক। তাপমাত্রা ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। উপত্যকার ফলের বাগিচাগুলিতে আপেল, আখরোট, অ্যামন্ডের প্রাচুর্য  প্রত্যক্ষ করতে হলে শরৎ সেরা ঋতু। এই সময়টাতেই উপত্যকার ঘরে ঘরে উৎকৃষ্ট সব জ্যাম, জেলি তৈরি হয়। শরতে কাশ্মীরে বেড়াতে গেলে চেরি, অ্যাপ্রিকটের জ্যাম সংগ্রহ না করে ঘরে ফেরাটা মোটেই উচিত কাজ হবে না।
অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের প্রথমার্থ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে উপত্যকার দিকে দিকে জাফরান ফুল ফোটে। তবে পাহাড়ের পাদদেশের খেত ভরা জাফরান ফুলের মেলা দেখতে হলে একবার পুলওয়ামা জেলার প্যাম্পোরে ঢুঁ মারতে হবে। শ্রীনগর থেকে প্যাম্পোর ১৫-১৬ কিলোমিটার।
প্রকৃতির উৎসব, উচ্ছ্বাস  স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। দিকে দিকে আয়োজিত হয় কৃষিমেলা। প্যাম্পোরের কৃষিমেলাটি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি পেয়েছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ বা নভেম্বরের শুরুতে প্যাম্পোরের মেলাটি আয়োজিত হয়ে থাকে। এই কৃষিমেলাগুলিতে কাশ্মীরের নানা হস্তশিল্প সামগ্রী কিনতে পাওয়া যায়।
দুদ্ধর্ষ শীতের আগে, বরফে আচ্ছাদিত হওয়ার প্রাক্কালে বহুবর্ণে আরেকবার রূপের ডালি সাজিয়ে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে কাশ্মীর।
ফটোঃ লেখক।
লেখকের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরঃ 6290363041.

 

Comments are closed.