হিমাচলের রকছাম

বিষ্ণুপুরের মৃন্ময়ী মন্দিরে হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গাপূজা
August 30, 2026

হিমাচল প্রদেশের ছোট্ট একটি গ্রাম রকছাম। শিল্পীর তুলিতে আঁকা যেন।  স্পিতি সার্কিটের অন্তর্গত সারাহান থেকে রকছাম  ১০৭ কিলোমিটার।  সারাহান, সাংলার সঙ্গে জুড়ে নেওয়া যায় রকছামকে। কীভাবে বেড়ানো যায়? নিজে বেড়িয়ে এসে রকছাম বেড়ানোর একটি তথ্যবহুল রূপরেখা তৈরি করেছেন  তুষার পাত্র

কীভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে কালকা মেলে চণ্ডীগড় অথবা কালকা। চণ্ডীগড় থেকে গাড়িতে বা কলকা থেকে শিবালিক এক্সপ্রসে সিমলা। ওখান থেকে গাড়িতে সারাহান ও রকছাম-সহ অন্যত্র।

কোথায় কোথায় বেড়ানো যায় একত্রে

সিমলা, সারাহান, রকছাম, সাংলা, ছিটকুল, রিকংপিও এবং কল্পা (কিন্নর কৈলাস)।

কীভাবে বেড়াবেন

প্রথম দিন : হাওড়া থেকে সন্ধ্যার কালকা মেলে  রওনা।

দ্বিতীয় দিন: ট্রেনে।

তৃতীয় দিন : ভোরে কালকায় নেমে ধরুন  শিবালিক এক্সপ্রেস। ট্রেন সিমলায় পৌঁছাবে সাড়ে ১০টা নাগাদ। চণ্ডীগড়ে নেমে গাড়িতে সিমলায় পৌঁছতে পারেন। সিমলায় হোটেলের ছড়াছড়ি। চাইলে থাকতে পারেন সিমলা কালিবাড়িতেও। এক্ষেত্রে আগে থেকে চিঠি লিখে সম্মতি নিতে হয়। বিকেলে বেরিয়ে সিমলা কালিবাড়ি ঘুরে চলে আসুন সিমলা মলে। চাইলে সন্ধ্যেবেলায় বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করতে পারেন।

চতুর্থ দিন : আজ সকালে সিমলা থেকে রওনা হয়ে আমরা যাব সারাহান। দূরত্ব ১৭৫কিলোমিটার। সময় লাগবে কম করে সাত ঘন্টা। সিমলা থেকে সরকারি বাস আছে। এই পথে প্রথমেই পড়বে কুফরি। অল্প সময়ের জন্যে হলেও নেমে দেখতে পারেন। জায়গাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। দেখে নিতে পারেন সেই জায়গাটা যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সারাহানের প্রধান আকর্ষন ভীমকালী মন্দির এবং জায়গাটার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এখানে মন্দিরের অতিথিশালা ছাড়াও অনেক হোটেল আছে। বিকেলে  মন্দিরে সন্ধ্যা-আরতি দেখতে পারেন।

পঞ্চম দিন : সারাহানের ভীমকালী মন্দির ৫১ সতীপিঠের অন্যতম। সময় নিয়ে  মন্দিরে পুজো দিতে পারেন। ঘুরে দেখুন কাঠের তৈরি মন্দিরের অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী। পায়ে পায়ে বেড়িয়ে দেখে নিতে পারেন গ্ৰামটা। মন্দিরের খুব কাছেই রয়েছে বুশাহার রাজবাড়ি। ঘুরে আসুন একবার। চারপাশের প্রাকৃতিক শোভা দেখতে দেখতে কী ভাবে দিনটা কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না।

ষষ্ঠ দিন: আজ আমরা ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পড়ব রকছামের উদ্দেশে। দূরত্ব ১০৭ কিলোমিটার। সময় লাগে সাড়ে পাঁচ ঘন্টার মতো। যাওয়ার পথে আমরা ঘুরে দেখব সাংলার কামরু ফোর্ট। এটি সাংলা থেকে দু’কিলোমিটার দূরে। প্রায় দেড়হাজার সিঁড়ি বেয়ে ফোর্টে উঠতে হয়। খুব কষ্টসাধ্য। ফোর্টে প্রবেশ নিষেধ। পাশের মন্দিরে পুজো দিতে পারেন। এখান থেকে দেখা সাংলা ভ্যালি এককথায় অসাধারণ। আর সাংলায় আসার রাস্তার সৌন্দর্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। বিকেলের আগেই পৌঁছে যাবেন রকছাম। খুব ছোট্ট এক পাহাড়ি জনপদ রকছাম। নির্জনতা আর অবাক করা নৈসর্গিক পরিবেশ রকছামের মূল আকর্ষণ। আপেল বাগানে ঘেরা এই রকছামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বিয়াস বা বিপাসা  নদী। গুটিকয়েক হোটেল আর হোমস্টে নিয়ে রকছাম আপনাকে স্বাগত জানাবে। এখানে একটা দিন থাকতে পারলে তা সারা জীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। রকছামে থাকতে হলে আগে থেকে হোটেল বুক করে যাওয়া ভালো।

সপ্তম দিন : আজ  ছিটকুল আর রিকংপিও দেখে পৌঁছে যাব কল্পা। রকছাম থেকে ছিটকুল আধ ঘন্টার রাস্তা। এ পথে ছিটকুল ভারতের শেষ গ্ৰাম। ঘন্টা দু’য়েক সময় যথেষ্ট ছিটকুল ঘুরে দেখার জন্যে। খুব ছোট গ্ৰাম । ছিটকুলের নৈসর্গিক দৃশ্য অসাধারণ। সারা জীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকবে ছিটকুলে বেড়ানোর স্মৃতি। প্রাণ ভরে ছবি তুলুন। গ্ৰামের মধ্যে একটা মন্দির আছে। কোনও হোটেলের সামনে বাংলায় ‘আলু-পোস্ত’ লেখা দেখলে অবাক হবেন না। এখান থেকে সোজা রেকংপিও। সেখানে খানিকটা সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি। কল্পার জেলাসদর এই রেকংপিও। দোকানপাট, অফিসকাছারি নিয়ে জমজমাট পাহাড়ি শহর রেকংপিও। শহরটার আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে। যে দিকে তাকাবেন বরফে ঢাকা পাহাড়। বিকেলে পৌঁছে যাবেন কল্পা। হোটেলে চেক ইন করতে মন চাইবে না। কারন আপনার সামনে তখন শুধুই কিন্নর কৈলাস।

অষ্টম দিন : আজকের দিনটা শুধু কল্পার জন্যে। এখানকার সব হোটেল থেকেই দেখা যায় কিন্নর কৈলাস। এক বার কল্পায় এলে মনে হবে জীবন সার্থক। কল্পার সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। দিনভর বেড়িয়ে দেখুন কোঠি গ্ৰামের চণ্ডিকা দেবীর মন্দির,  কল্পা মনাস্ট্রি এবং নারায়ণ নাগিনী মন্দির। বাকি সময়টা কেটে যাবে পাহাড়ের দিকে চেয়ে চেয়ে।

নবম_দিন: আজকের দিনটা খানিক কঠিন। কল্পা থেকে সিমলায় ফেরা। ২৪০ কিলোমিটার রাস্তা। সময় লাগবে কমবেশি দশ ঘণ্টা। পাহাড়ি রাস্তায় এই জার্নিটা একটু ক্লান্তিকর লাগতে পারে। তাই অনেকেই এই পথে রামপুরে রাত্রিবাস করেন। আমি বলবো একটু কষ্ট হলেও সিমলায় ফিরে যাওয়াই ভালো। নিশ্চিন্তে  বিশ্রাম নিন সিমলায় ফিরে।

দশম দিন: খুব ক্লান্ত থাকায় আজ ঘুম ভাঙতে একটু দেরি তো হতেই পারে। সিমলায় কিছু কেনাকাটা বাকি থাকলে আজ করে নিন। দুপুরে লাঞ্চ করে এক ঘুম দিয়ে বিকেলে রওনা দেওয়া কালকার উদ্দেশে। সিমলা থেকে কালকা যাওযার প্রচুর বাস পাওয়া যায়। রাস্তা খুব ভালো। কালকা থেকে রাতের  ডাউন কালকা-হাওড়া মেলে ফিরতি যাত্রা।
একাদশতম দিন: ট্রেনে

দ্বাদশ দিন :- সকাল সকাল  হাওড়ায়।

ট্রেনের সময়সূচি আগেভাগে দেখে নেবেন। সময় পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করলাম না।

সুন্দর হোক ভ্রমণ –

 

Comments are closed.