বর্ষায় জলপ্রপাতের রাঁচি

Travels in South Asia and Beyond
July 21, 2026

পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের রাজধানী। হাওড়া থেকে রেলপথে রাঁচি ৩৯৫ কিলোমিটার।  ছোটনাগপুর মালভূমির দক্ষিণে প্রায় ২৩০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত রাঁচির আবহাওয়া সমতলের তুলনায় শীতল। অতীতে রাঁচি বিহারের ব্রিটিশ প্রশাসনের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হত। পাহাড়, ঝর্ণা, লেক, ধর্মীয় স্থান ইত্যাদির সমাহারে রাঁচি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রও বটে। রাঁচির সৌন্দর্যে বিশেষ মাত্রা যুক্ত হয় বর্ষায়। এ সময় রাঁচি ও সংলগ্ন অঞ্চলগুলি অনেক বেশি সবুজ। লেকগুলো জলে টইটম্বুর। জলপ্রপাতগুলো উচ্ছল। এ সময়ে রাঁচি ও তার আশেপাশের জলপ্রপাতগুলো পরিক্রমার কথা ভাবা যেতেই পারে।

দশম জলপ্রপাত

কাঞ্চী নদী ১৪৪ ফুট উচ্চতা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে নীচে। সৃষ্টি হয়েছে দশম জলপ্রপাতের। বর্ষায় এই জলপ্রপাতের প্রকৃত রুপটি প্রত্যক্ষ করা যায়। শ’দুয়েক সিঁড়ি ভেঙ্গে জলপ্রপাতের নীচে যাওয়া যায়। রাঁচি শহর থেকে দশম জলপ্রপাতের দূরত্ব ৪৬ কিলোমিটার।

হুন্ডরু জলপ্রপাত

রাঁচি শহর থেকে হুন্ডরু জলপ্রপাত ৪৮ কিলোমিটার। সুবর্ণরেখা নদী ৩২০ ফুট উচ্চতা থেকে ঝাঁপ দিয়েছে। বর্ষায় হুন্ডরুর দুরন্ত রূপ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যেতে হয়। প্রায় ৭০০ ধাপের সিঁড়ি বেয়ে জলপ্রপাতের নীচের অংশে যাওয়া যায়। সেখানে রয়েছে একটি জলাশয়, চাইলে সেই জলাশয়ে স্নান করা যায়।

জোনহা জলপ্রপাত

রাঁচি শহর থেকে জোনহা জলপ্রপাতের দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার। জলপ্রপাতের পরিবেশটি খুব সুন্দর। প্রপাতের প্রধান উৎস গুঙ্গা নদী। ১৪১ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে এসেছে এই জলপ্রপাতটি। এই জলপ্রপাতের আরেক নাম গৌতমধারা।  কাছেই গৌতম বুদ্ধের একটি মন্দির রয়েছে।

সীতা জলপ্রপাত

জোনহা জলপ্রপাতের কাছাকাছি সীতা জলপ্রপাতের আবস্থান। দশম, হুন্ডরু বা জোনহার মতো তুমুল জনপ্রিয় না হলেও বর্ষায় ও বর্ষাশেষে সীতা জলপ্রপাতের স্বরূপটি চাক্ষুষ করা যায়। কাঞ্চি নদীর প্রবাহ থেকে সীতা জলপ্রপাতের সৃষ্টি।

পঞ্চঘাঘ জলপ্রপাত

পাঁচ ধারার জলপ্রপাত এটি। অল্প উচ্চতা থেকে ধেয়ে আসে জলস্রোত। বর্ষায় সে স্রোত তীব্র। রাঁচি থেকে পঞ্চঘাঘ জলপ্রপাতের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার।

উপরে বলা জলপ্রপাতগুলি রাঁচি শহরকে কেন্দ্র করে`৫০ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে অবস্থিত। রাঁচি শহরকে ভিত্তি করেই এই জলপ্রপাতগুলি দেখে নেওয়া যায়। ঝাড়খণ্ডের নানা প্রান্তে রয়েছে আরও কিছু জনপ্রিয় জলপ্রপাত। নীচে সেই জলপ্রপাতগুলির কথা জানানো হল।

হিরনী জলপ্রপাত

পশ্চিম সিংভূম জেলায় হিরনী জলপ্রপাতের অবস্থান। রাঁচি থেকে দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। সবুজ অরণ্যে ঘেরা হিরনী প্রপাত-সংলগ্ন পরিবেশের অপরূপ শোভায় মুগধ হতে হয়। রামগঢ়া নদী থেকে প্রপাতের উৎপত্তি। ১২০ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে এসেছে এই জলপ্রপাতটি।

রাজারাপ্পা জলপ্রপাত

রাজারাপ্পা ঝাড়খণ্ডের একটি প্রাচীন ও বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র। এখানকার সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছে ছিন্নমস্তার মন্দির। সামনেই ভৈরবী নদী ও দামোদর নদের সঙ্গম। সেই সঙ্গমের কাছেই রাজারাপ্পা জলপ্রপাত। ভৈরবী নদী উপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিলিত হয়েছে দামোদরের সঙ্গে। ওই ঝাঁপের ফলে সৃষ্টি হয়েছে জলপ্রপাত। রাঁচি থেকে রাজারাপ্পা ৭০ কিলোমিটার।

লোধ জলপ্রপাত

ঝাড়খণ্ডের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত এটি। বুধাঘগ জলপ্রপাত নামেও পরিচিত এটি। ৪৬৯ ফুট উচ্চতা থেকে ঝাঁপ দিয়েছে এই প্রপাত । উৎস উত্তর কোয়েলের শাখানদী বুরহা জলধারা। বর্ষায় বহু দূর থেকে জলপ্রপাতের গর্জন শোনা যায়। রাঁচি থেকে লোধ জলপ্রপাতের দূরত্ব ১৮৯ কিলোমিটার।

লোয়ার ঘাঘরি

নেতারহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে এই জলপ্রপাতটি। আঞ্চলিক ভাষায় ঘাঘরি শব্দটির অর্থ জলপ্রপাত। পাহাড়, জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জলপ্রপাতটির কাছে যেতে হয় ট্রেক করে। পেরতে হয় ছোট ছোট কয়েকটি পাহাড়ি নদী। গাছের ডালপালা দিয়ে তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক সেতু। সেগুলির ওপর দিয়ে পেরতে হয় নদীগুলি। নদী আর আপার ঘাঘরি থেকে উপচে পড়া জলের মিলিত ধারা ১০০ ফুট নীচে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। লোয়ার ঘাঘরি থেকে ৪-৫ কিলোমিটার ট্রেক করে পৌঁছানো যায় আপার ঘাঘরি। চির,পাইনের অরণ্যে ঘেরা জায়গাটি।  জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন কেড়ে নেয়। এখানে ন্যাসপাতির বিশাল বাগিচাও দেখবার মতো।

যাওয়ার পথ

হাওড়া থেকে রেলপথে রাঁচির দূরত্ব ৪১৯ কিলোমিটার। ক্রীড়াযোগ এক্সপ্রেস, হাওড়া-রাঁচি ইন্টারসিটি, হাওড়া-রাঁচি জনশতাব্দী স্পেশাল প্রভৃতি ট্রেন হাওড়া থেকে রাঁচি যায়।

রাঁচিতে থাকার ব্যবস্থা

হোটেল অমৃত ৯৪৩১১০৫৮৮৪। হোটেল এ ভি এন প্লাজা ৯৭৭১৪৮০৩৮৪। হোটেল প্রতাপ গ্র্যান্ড ৯০৬০৩২২০০১। হোটেল সৎকার ০৬৫১-২৪৬-০৮৪৪। হোটেল বীনা ইন ৭৬৩১৭০০০৭৬। হোটেল দি এলিমেন্টস ৯৫৭০৭৭৭৭০৩, ৯২০৪৭৮৪৬৮৮। হোটেল ব্লিস রিজেন্সি ০৬৫১-২৪৬-০৪৭৩।

রাঁচির টুরিস্ট ইনফর্মেশন সেন্টারের ঠিকানাঃ জেটিডিসি হেডকোয়াটার্স, টুরিস্ট কমপ্লেক্স, ৫,মহাত্মা গান্ধি মার্গ, রাঁচি, ঝাড়খণ্ড-৮৩৪০০১, ফোনঃ ০৬৫১-২৪০০৯৮২। কলকাতায় ঝাড়খণ্ড টুরিস্ট ইনফর্মেশন সেন্টারের ঠিকানাঃ ১২/এ, ক্যামাক স্ট্রিট, ঊষাকিরণ বিল্ডিং, নবম তল, ফ্ল্যাট নম্বর ৮বি, কলকাতা-১৭। ফোনঃ ০৩৩-২২৮২-০৬০১, ৮৬৯৭০৯৪৭৯০।

Comments are closed.