Follow us
Search
Close this search box.

বর্ষায় ট্রেকপথে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স, হেমকুণ্ড সাহিব

বর্ষায় ট্রেকপথে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স, হেমকুণ্ড সাহিব

বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ, জাঁসকর পর্বতমালা, ঝরনা, কী এক প্রাণ জুড়ানো আঘ্রাণ, আর ফুলে ফুলে ছাওয়া হিমালয়ের অন্দরের এক উপত্যকা।

ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স। ফুলের উপত্যকা। সেই উপত্যকায় যাওয়ার এবং অবাক হয়ে দেখার সেরা মরসুম বর্ষা। বিশেষ করে জুলাই-অগস্ট মাস। বৃষ্টির কত ধারা, আর ফুল, অস্ংখ্য। ওখানে বর্ষায় ব্রক্ষ্মকমল ফোটে।

সঙ্গে ছোট একটি ট্রেকিং। গোবিন্দঘাট থেকে ঘাংঘারিয়া হয়ে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স। মোট ১৬ কিলোমিটার। ঘাংঘারিয়া গোবিন্দঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার। ঘাংঘারিয়ায় থাকার ব্যবস্থা আছে। পরের দিন সকালে ৩ কিলোমিটার ট্রেক করে পৌঁছাতে হবে ফুলের উপত্যকায়। আবার দিনে দিনে ফিরে আসতে হবে ঘাংঘারিয়ায়। ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্সের আভ্যন্তরে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা নেই। অনুমতিও নেই।

উপত্যকায় যাওয়ার পথে পেরতে হবে লক্ষ্মণগঙ্গা। বর্ষায় তার ভয়ঙ্কর সুন্দর রুপ আরেক পাওনা।

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার ৮৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স-এর বিস্তার। পশ্চাৎপটে জাঁসকর পর্বতমালা। শীতে উপত্যকা ঢাকা পড়ে বরফে। গ্রীষ্মের শুরুতে বরফ গলতে শুরু করে। উপত্যকার রং তখন ধূসর। অজস্র ফুলে বর্ণময় হয়ে ওঠে গোটা উপত্যকা বর্ষার মরসুমে। । নন্দাদেবী বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের ১১,৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত জাতীয় উদ্যান এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এই ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বর্ষায় যেন এক জাদু।

বিভিন্ন বন্য প্রাণীর আবাসও বটে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স। উপত্যকায় রয়েছে কস্তুরী হরিণ, হিমালয়ের কালো ও বাদামী ভাল্লুক, লালরঙা শিয়াল, ভারাল, থর, স্নো লেপার্ড। আর আছে হিমালয়ান মোনাল-সহ নানা প্রজাতির পাখি।

জুন থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স খোলা থাকে। তবে বেড়ানোর সেরা সময় ওই জুলাই-অগস্ট মাস। পার্কে প্রবেশ করা যায় সকাল ৭টা থেকে। বিকেল ৫টার পরে আর পার্কের মধ্যে থাকা যায় না। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে পার্কে প্রবেশের ফি মাথাপিছু ১৫০ টাকা। এই ফি ৩ দিনের জন্য কার্যকর থাকে। তিনদিন পর থেকে দিনপ্রতি অতিরিক্ত ফি ৫০ টাকা।

হেমকুণ্ড সাহিব

ঘাংঘারিয়া একটি চমৎকার পয়েন্ট। একদিকে চলে গেছে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্সের পথ। আরেকদিকে শিখ তীর্থ হেমকুণ্ড সাহিব যাওয়ার পথ। ঘাংঘারিয়া থেকে ৬ কিলোমিটার ট্রেক করে চলে আসবেন হেমকুন্ড সাহিব। ট্রেকপথে এবং ১৪,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত হেমকুণ্ড সাহিব থেকে হিমালয়ের বিভিন্ন নামী শৃঙ্গের দর্শন পাওয়া যাবে। সে দৃশ্য আপনাকে সম্মোহিত করবে। হেমকুণ্ড সাহিব বিশ্বের উচ্চতম স্থানে অবস্থিত গুরুদ্বার।

হরিদ্বার থেকে বদ্রীনাথের পথে গোবিন্দঘাট পর্যন্ত চলে আসা যায় গাড়িতে। তারপর ট্রেক করে ঘাংঘারিয়া। তারপরে একে একে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স এবং হেমকুন্ড সাহিব যাত্রা। গোবিন্দঘাট থেকে পোর্টার ও ঘোড়া পাওয়া যায়।

গোবিন্দঘাট থেকে আরেক শৈব তীর্থক্ষেত্র বদ্রীনাথ ২৫ কিলোমিটার। হাতে সময় থাকলে একই যাত্রায় বদ্রীনাথ দর্শনও সেরে ফেলা যায়।

ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্সের কিছু ফুলঃ বিভিন্ন প্রজাতির মকশুদ, হিমালয়ান কলম্বাইন, বিভিন্ন প্রজাতির অ্যানেমন, মার্শ মেরিগোল্ড, বিভিন্ন প্রজাতির জেরানিয়াম, হার্ব রোবার্ট, ব্লু পপি, ইয়েলো পপি, ইয়েলো উড ভায়োলেট, হিমালয়ান বেবিস ব্রিদ, ডোয়ার্ফ গ্লোব ফ্লাওয়ার, বিভিন্ন প্রজাতির বালসম, মিল্ক ভেচ, হিমালয়ান রোজ, সিল্কি রোজ, হিমালয়ান বারগেনিয়া, গোল্ডেন রড, হোয়াইট-লিফ হগউইড, অ্যস্টার, আ্যঞ্জেলিকা, কোবরা লিলি, মিনি সানফ্লাওয়ার। কোথাও খুঁজে পাবেন ব্রহ্মকমল। এটি ছোট একটি তালিকা। ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্সে দেখা যাবে আরও কত ফুল।

ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স এবং তার ফুল, লতাপাতা, বৃক্ষ সম্পর্কে একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘দি ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্সঃ অ্যান আ্যডভেঞ্চার ইন দি আপার হিমালয়া’। লেখক ফ্রাঙ্ক এস স্মিথ। বইটি পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, ১৯৩১ সালে পর্বতারোহী ফ্রাঙ্ক এস স্মিথ কয়েকজন সদস্য-সহ সফল কামেট অভিযান শেষ করে ফেরার পথে বর্তমান উত্তরাখণ্ডের ভ্যুন্দার উপত্যকায় এসে পৌঁছান। ভ্যুন্দারে ফুলের মেলা দেখেছিলেন তিনি। এক বছর পরে বর্ষার মরসুমে আবার ভ্যুন্দারে এসেছিলেন স্মিথ। উপত্যকার গাছপালা, ফুল ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা করেছিলেন তিনি। এই ভ্যুন্দার উপত্যকাই ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স। স্মিথের সমীক্ষালব্ধ মূল্যবান সব তথ্য রয়েছে উপরোক্ত বইটিতে।

যাওয়ার পথ

ট্রেনে চলে আসতে হবে হরিদ্বার বা দেরাদুনে, অথবা বিমানে দেরাদুনের জলি গ্রান্ট এয়ারপোর্টে। হরিদ্বার থেকে যোশীমঠ হয়ে চলে আসবেন গোবিন্দঘাট। এই গোবিন্দঘাট থেকেই ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স ও হেমকুণ্ড সাহিবের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে। সড়কপথে হরিদ্বার থেকে গোবিন্দঘাট ২৯৫ কিলোমিটার। দেরাদুনের জলি গ্রান্ট এয়ারপোর্ট থেকে গোবিন্দঘাট ২৮৬ কিলোমিটার। হরিদ্বার, হৃষিকেশ বা দেরাদুন থেকে গোবিন্দঘাট যাওয়ার বাস পাওয়া যাবে। পাওয়া যাবে প্রাইভেট গাড়িও।

থাকার ব্যবস্থা

গোবিন্দঘাটেঃ গঙ্গা রিসর্ট হোমলি স্টে, ফোনঃ ৯৪১১১-৮৩৯৯১। হোটেল ভগৎ, ফোনঃ ৯৪১১১-৮৩৯৯১। গুরুদ্বার, গোবিন্দঘাট, ফোনঃ ১৩৮৯২-১২২৯৩ (www.hemkunt.in/gurudwaras).

গোবিন্দঘাটের তুলনায় যোশীমঠে হোটেলের সংখ্যা অনেক বেশি। যোশীমঠ থেকে গোবিন্দঘাট ২০ কিলোমিটার। একটা ট্যাক্সি নিয়ে চলে যাওয়া যায়।

যোশীমঠের কিছু হোটেলঃ জি এম ভি এন টুরিস্ট রেস্টহাউস, হেল্পলাইন নম্বরঃ ০১৩৫-২৭৪৬৮১৭, ৯৫৬৮০-০৬৬৩৯। উত্তরাখণ্ড পর্যটনের কলকাতা অফিসের ঠিকানাঃ ৭/২সি, চক্রবেড়িয়া রোড (দক্ষিণ), ভবানীপুর, কলকাতা-৭০০০২৫। ফোনঃ ৯৮৩১১১০৯৯, ০৩৩-২৪৭৬-৫৫৫৫। হোটেল কামেট, ফোনঃ ৯৪১২০-৩২২০২। হিমালয়ান অ্যবড, ফোনঃ ০১৩৮৯-২২২৬৮৭, ৯৯১৭৯-৭৬১৩২। হোটেল দ্রোনাগিরি, ফোনঃ ০১৩৮৯-২২২৬২২, ৮১২৬৯-৮৮৩৮৮। হোটেল পঞ্চবটী ইন, ফোনঃ ৯০৬৮০-১৭১৪১, ৯০৬৮০-১৭১৪২।

ঘাংঘারিয়ায়ঃ হোটেল কুবের, ফোনঃ ৯৬২৭০-০৬০১০। হোটেল কুবের অ্যনেক্স, ফোনঃ ৮৯৫৮৩-৯৭৯৪৯। চার মঞ্চ রিসর্ট, ফোনঃ ৯৭৬১২-১৩০৪৮। হোটেল ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স, ৯৭৫৬৮-১৩২৩৬, ৭০৮৮৮-৪৪৯৩৯। ব্লু পপি সুইস কটেজ, ফোনঃ ৯৯৯১২-৪২৭৫৯। হোটেল হিমালয়ান হলিডেজ, ফোনঃ ৯৪৫৮১-৪৪১৪৬, ৯৪১০৫-০৯৭৬৯।

হেডার ছবি সৌজন্য: উইকিপিডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *