Follow us
English

এডাক্কলে প্রাগৈতিহাসিক গুহাচিত্র, সঙ্গে ওয়াইনাড ভ্রমণ

এডাক্কলে প্রাগৈতিহাসিক গুহাচিত্র, সঙ্গে ওয়াইনাড ভ্রমণ

কেরালার ওয়াইনাড জেলায় এডাক্কল গুহা প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি। এখানকার দুটি বিশালাকার গুহায় রয়েছে প্রগৈতিহাসিক মনুষ্যবসতির নানা স্বাক্ষর। গুহাগাত্রে দেখা যাবে আশ্চর্য সব খোদাই চিত্র। ঐতিহাসিকদের মতে যিশু খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৬০০০ বছর আগে নব্য-প্রস্তর যুগে এই চিত্রগুলির সৃষ্টি। এ পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে আবিষ্কৃত মানুষের প্রাচীনতম বসতিগুলির একটি এই এডাক্কল গুহাঞ্চল।

ওয়াইনাডের গুহাচিত্র। ফটো সৌজন্যঃ ওয়াইনাড় টুরিজম।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় উপমহাদেশে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ২৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে। দক্ষিণ মেক্সিকো, গুয়াতেমালা এবং ব্রাজিলের উত্তরাংশ জুড়ে গ্রামীণ মায়া সভ্যতার সূচনা ঘটেছিল যিশু খ্রিস্টের জন্মের ১৫০০ বছর আগে। চেক প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণ মোরাভিয়ার দলনি ভেস্টোনাইস এলাকায় ২৫০০০ বছরের প্রাচীন মনুষ্যবসতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এটিই এখনো পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া প্রাচীনতম মনুষ্যবসতির ঠিকানা।

পশ্চিমঘাট পর্বতমালার অন্তর্ভুক্ত অম্বুকুঠিমালা পর্বতের ৩৯৩৮ ফুট উচ্চতায় এডাক্কল গুহার অবস্থান। সবুজে সবুজ অম্বুকুঠিমালায় বছরের অধিকাংশ সময়ে কুয়াশা ওড়ে। কী এক রহস্যে যেন আবৃত হয়ে থাকে অম্বুকুঠিমালা পর্বত ও তার গুহা। এডাক্কল গুহা যাত্রা যেন টাইম মেশিনে চড়ে অতীত-অভ্যন্তরে প্রবেশ করা।

ভারতীয় সভ্যতার একটি পীঠস্থান। এডাক্কল গুহা। দি উডস রিসর্ট।

ছবিতে, এচিংয়ে গুহাগাত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষ, জীবজন্তু, হাতিয়ার ইত্যদির প্রতিকৃতি। পাঁচটি ভিন্ন ভাষার খোদিত লিপিমালাও আবিষ্কৃত হয়েছে গুহাগাত্রে। প্রাগৈতিহাসিক মানুষের জীবনযাত্রার নানা ছবি চাক্ষুষ করা যায় এডাক্কল গুহার প্রস্তরযুগীয় শিল্পকর্মে। আমাদের পূর্বপুরুষদের সমাজ, সংস্কৃতি শিল্পবোধ-সংক্রান্ত অমূল্য দলিল আগলে রয়েছে এডাক্কল গুহা।

গুহাগাত্রে শিল্পকর্ম। ফটো সৌজন্যঃ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।

ওয়াইনাড কেরালার জনপ্রিয় হিলস্টেশন। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার আঙিনায় সবুজের স্বর্গরাজ্য ওয়াইনাড। সমুদ্র উপকূলের কোঝিকোড় শহর থেকে পাহাড়ি রাস্তা, কফি-গন্ধী বাতাস, বন্যপ্রাণ, অরণ্য, পর্বত-সহ সবুজবরণ ওয়াইনাডের দূরত্ব ৭৬ কিলোমিটার। কোঝিকোড় থেকে ওয়াইনাড আসার ট্রেন ও বাস পাওয়া যায়। শুধু ওয়াইনাডকে কেন্দ্র করেই আয়োজিত হতে পারে একটি মনে রাখার মতো ভ্রমণ।

ওয়াইনাডের অভ্যন্তরে। ফটো সৌজন্যঃ ওয়াইনাড ডট কম।

সুলতান বথেরী ওয়াইনাডের একটি পুরনো শহর। এক সময় জৈন ধর্মের বিকাশ ঘটেছিল এখানে। এই সুলতান বথেরী থেকে এডাক্কল গুহা ১৪ কিলোমিটার। ওয়াইনাড শহরের কেন্দ্র থেকে এডাক্কল গুহা ৪৮ কিলোমিটার। কালিকট ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ওয়াইনাডের নিকটতম বিমানবন্দর। কালিকট
এয়ারপোর্ট থেকে ওয়াইনাড ৬৫ কিলোমিটার।

কেরালায় বেড়াতে গেলে ভ্রমণসূচিতে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার অন্দরমহল ওয়াইনাডকে শামিল করা গেলে তা হবে একটি সুচিন্তিত ভ্রমণ পরিকল্পনা। ওয়াইনাডের কুরুভা আইল্যান্ড, বানাসুর সাগর ড্যাম, চেমব্রা পিক, পুকোড লেক, অনন্তনাথ স্বামী জৈন মন্দির, থলপেট্টি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য, লাক্কিডি ভিউপয়েন্ট, নীলিমালা ভিউপয়েন্ট-সহ নানা দর্শনীয় জায়গায় যাবেন। আর অবশ্যই যাবেন এডাক্কল গুহায়।

এডাক্কল গুহা। ফটো সৌজন্যঃ উইকিমিডিয়া কমনস।

ওয়াইনাডের সদর শহর কলপেট্টা। পাহাড় ও কফির খেত ঘিরে রেখেছে সুন্দর শহরটিকে। নানা মশলা পাওয়া যায় এই শহরে। কলপেট্টায় বছরভর দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে। কেরালার বিশিষ্ট একটি ‘টুরিস্ট হাব’ হিসেবে চিহ্নিত কলপেট্টা। ওয়াইনাডের নানা দিকে বেড়ানোর জন্য কলপেট্টা থেকে বাস, ট্যাক্সি, প্রাইভেট গাড়ি পাওয়া যায়। রয়েছে অনেক ট্র্যাভেল এজেন্সি।

ওয়াইনাডের পথে। ফটো সৌজন্যঃ কেরালা টুরিজম।

কলপেট্টা থেকে সুলতান বাথেরিগামী বাসে চড়ে নামবেন কোলাগাপ্পারা স্টপেজে। এখান থেকে এডাক্কল কেভ যাওয়ার বাস পাবেন। বাস থেকে খানিকটা হেঁটে গুহায় ওঠার দ্বারে পৌঁছাবেন। গুহার কাছাকাছি যাওয়ার জন্য রিক্সাও পাবেন।

কলপেট্টা থেকে এডাক্কল গুহা ২৫ কিলোমিটার। সরাসরি যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি, প্রাইভেট গাড়িও পাওয়া যাবে। ৩৮০ ধাপের সিঁড়ি বেয়ে গুহায় প্রবেশ করতে হবে। আমাদের প্রাগৈতিহাসিক পূর্বসূরীদের আবাসস্থলে গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য এটুকু তো করাই যায়।

কলপেট্টার কয়েকটি হোটেল

আইকন হোটেল, ফোন ০৭৩৫৬০ ০৮২০৮
সূর্য ক্যাসেল, ফোন ০৪০৩৬ ২০৫ ১৪৫
উডরোজ রিসর্ট, ফোন ০৯০৭২৩ ৬৭৬৯৯
মার্মালেড স্প্রিংস রিসর্ট, ফোন ০৯৮৪৭১ ০৫৫৭৮
কাল্লট ব্রিটিশ রিসর্ট, ফোন ০৯৯৪৭২ ০৩৩৩৩
থ্রি হিলস কাউন্টি রিসর্ট, ফোন ০৮০৭৮৮ ০১১৮৮
দি সামার ভিলা হোমস্টে, ফোন ০৯৪৪৭৩ ১৬৫১৫
জুবিস ইন, ফোন ০৭৭৯৬৮ ৮৮৪৪৪
স্কাইনর ভিলা, ফোন ০৯৪৪৭২ ৯৬২৩৪
হোটেল আইভরি গ্রান্ড হোটেল, ফোন ০৯৪৯৭৩ ৭৭৭৭৭
এভারগ্রিন হোমস্টে অ্যান্ড টেন্ট ০৯৫৬৭১ ১২১১৪

হেডার ছবিঃ পাখির চোখে ওয়াইনাড। ফটো সৌজন্যঃ কেরালা টুরিজম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *