Follow us
English

আপন গন্তব্যে, ওপার বাংলায়

আপন গন্তব্যে, ওপার বাংলায়

প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ। পর্বত, অরণ্য, হ্রদ, ঝর্ণা, সমুদ্র, অসংখ্য নদী, প্রত্নস্থল আর নদীমাতৃক দেশের প্রাচীন সংস্কৃতি, অপূর্ব সুন্দর পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটির আদিবাসী ঐতিহ্য, সবমিলিয়ে বেড়ানোর জায়গার অভাব নেই দেশটিতে। কীভাবে বেড়াবেন, কোথায় কোথায় যাবেন, এ সব প্রশ্ন তো থাকেই। এখানে বৈচিত্রময় বাংলাদেশ ভ্রমণের দশ দিনের একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন ঢাকাস্থিত পর্যটন সংস্থা স্পিড হলিডেজের কর্ণধার মোঃ মেসবাউল আলম।

কুলুকুলু ধ্বনিতে মুখরিত নদীমাতৃক দেশটি। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বুড়িগঙ্গা, কর্ণফুলি, কপোতাক্ষ, শীতলক্ষা, কীর্তনখোলা, আরও কত নদী। নদীতীরের শ্যামল রূপে চোখ জুড়িয়ে যায়। দেশটিকে নিয়ে ঠাকুরমা-ঠাকুরদাদার কাছ থেকে কত স্মৃতিকথা শোনা। শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি, কপোতাক্ষ নদের তীরে চতুষ্পদী ‘সনেট’-এর স্রষ্টা মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি, আধ্যাত্মিকতার চেতনায় উদ্ভাসিত লালনগীতির রচয়িতা ফকির লালন শাহের আখড়া ও সমাধিস্থল, স্মৃতি অনেক। এ পর্যন্ত এসে এটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে, দেশটি বাংলাদেশ। হ্যাঁ, কাঁটাতার পেরিয়ে আসতে হয় বটে, তবে এসে পড়লে আন্তরিক আতিথেয়তায় বিন্দুমাত্র খামতি থাকে না। আলাদা দেশ বটে, তবে ভাষাটা তো আমাদের বাংলা।

বুড়িগঙ্গায় নৌকা ভ্রমণ।

রাঙামাটির সবুজ পাহাড়ে ঘেরা কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি বেয়ে শুভলং ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার সেই আশ্চর্য জলযাত্রা, রাঙামাটি অঞ্চলের আদিবাসী সংস্কৃতি, কক্সবাজারে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে একের পর এক সাগরের ঢেউ ভাঙা, তীরে রকমারি সামুদ্রিক খাদ্যের মেলা, আবার ভাটির দেশ সুন্দরবনে জল-জঙ্গলের আরেক সৌন্দর্য। সে-ভ্রমণ যথেষ্ট রোমাঞ্চকরও বটে।

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যে।

ওয়াটার ক্রুজারে চড়ে ঢাকার সদরঘাট থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৬ ঘন্টার যাত্রাটি মনে থাকবে আজীবন। পদ্মা, মেঘনা-সহ বাংলাদেশের দক্ষিণাংশের প্রধান নদীগুলির সঙ্গে সাক্ষাতের সে এক মস্ত সুযোগ পাওয়া যায় এই যাত্রায়।

সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরে ভগ্নপ্রায় পুরনো সব প্রাসাদের সারি একদা এখানকার বস্ত্র ব্যবসায়ীদের বৈভবের সাক্ষ্য দেয়। বাংলার বারো ভুঁইঞার এক ভুঁইঞা ঈশা খাঁ-র রাজধানী ছিল এই সোনারগাঁও। সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের তাঁত বস্ত্রের সম্ভার, সীতালক্ষা নদীর তীরে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত ঢাকাই জামদানী শাড়ির হাটও কম রোমাঞ্চকর নয়।

ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, বঙ্গ বাজার,ঢাকেশ্বরী মন্দির, লালবাগ কেল্লা, তারা মসজিদ, আহসান মঞ্জিল, এসব বেড়িয়ে দেখতে দেখতে কোথা দিয়ে কেটে যাবে আপনার ভালোলাগা দিনগুলো।

পুরানো ঢাকার তারা মসজিদ।

কতদিন লাগে বাংলাদেশের উল্লিখিত জায়গাগুলি বেড়িয়ে দেখতে? সেক্ষেত্রে ভ্রমণের একটা সূচি তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। মোট ১১ দিনের একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা। একাদশতম দিনটিতে গৃহপানে যাত্রার দিন। বেড়াবার জন্য পাওয়া যাবে ১০টি দিন।

ঢাকেশ্বরী মন্দির।

ভ্রমণ সূচি

প্রথম দিনঃ কলকাতা-বেনাপোল-যশোর

সকালের বাসে কলকাতা থেকে বেনাপোল। সেখানে ইমিগ্রেশনের কাজকর্ম মিটিয়ে যশোরের উদ্দেশে যাত্রা। পথে সাগরদাঁড়িতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়িটি দেখে নেওয়া যাবে। রাত্রিবাস যশোরে।

দ্বিতীয় দিনঃ যশোর-কুষ্ঠিয়া-নাটোর-পুঠিয়া-রাজশাহী

সকালে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা। পথে কুষ্ঠিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি ও ফকির লালন শাহের আখড়া ও সমাধিস্থল দর্শন। রাজশাহী যাওয়ার পথেই দেখে নেওয়া যাবে দিঘাপতি জমিদার বাড়ি (বর্তমানে উত্তরা গণভবন) এবং পুঠিয়া রাজবাড়ি ও মন্দির কমপ্লেক্স।

পুঠিয়ার মন্দির।

তৃতীয় দিনঃ রাজশাহী-নঁওগা-পাহাড়পুর-মহাস্থানগড়-বগুড়া

এ দিনের বেড়ানোটিকে পুরাকীর্তি ও পুরাতত্ত্ব বিষয়ক টুর বলা চলে। দেখা হবে নওগাঁর প্রাচীন কুসুম্বা মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও বগুড়ার মহাস্থানগড়। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল মহাস্থানগড়।

চতুর্থ দিনঃ বগুড়া-ভবানীপুর-সিরাজগঞ্জ-টাঙ্গাইল-মানিকগঞ্জ-সাভার-ঢাকা

রাজধানী শহর ঢাকা আসার পথে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সন্ধানে ১০-১২ ঘন্টা কেটে যাবে। অনেকটা সময় কেটে যায় সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের জামদানী শাড়ির বাজারে। ঢাকার হোটেলে রাত্রিযাপন। সাভার ঢাকা জেলার আওতাধীন একটি উপজেলা। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধটি।

জামদানী পল্লী, নারায়ণগঞ্জ।

পঞ্চম দিনঃ ঢাকা ও সোনারগাঁ ভ্রমণ

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা বেড়িয়ে দেখার দিন। সেইসঙ্গে পুরনো সোনারগাঁ শহরটিও বেড়িয়ে দেখা যাবে একইদিনে।

ষষ্ঠ দিনঃ

সকালে ঢাকার সদরঘাট থেকে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু আধুনিক ক্রুজারে। ৬ ঘন্টার যাত্রাপথে নদীমাতৃক বাংলাদেশের আবাক করা সব ছবি আঁকা হতে থাকে থাকবে এ যাতায়। পদ্মা, মেঘনার মতো বিশাল সব নদী বেয়ে যাওয়া। চলতে থাকবে নদীতীরের কত জনপদ।

ঢাকা সদরঘাট।

বিকেলে আয়েশ করে বরিশাল শহর বেড়িয়ে দেখা। সন্ধ্যার মাছের বাজারটি বেড়িয়ে আসতে পারেন। অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা হবে।

রাতে বিশালাকার লঞ্চের কেবিনের বিছানায় দুলতে দুলতে কখন ঘুম নামবে দু’চোখে। বরিশাল থেকে চলেছেন ঢাকায়।

সপ্তম দিনঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম-রাঙামাটি

লঞ্চ ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছাবে ভোরে। সীতালক্ষা নদীর তীরে জামদানী শাড়ির সাপ্তাহিক হাটে আসেন তাঁতিরা। সুলভ মূল্যে শাড়ি কেনার সুযোগ থাকে সেদিন। পরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়া দিন। চট্টগ্রাম হয়ে পৌঁছাবেন কাপ্তাই হ্রদের রাঙামাটিতে। পথে সীতাকুণ্ড পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির এবং কুমিল্লার অসাধারণ প্রাকৃতিক পরেবেশে ময়নামতী প্রাচীণ বৌদ্ধবিহারটিও দেখে নেওয়া হবে। রাত্রিবাস রাঙামাটির হোটেলে।

অষ্টম দিনঃ রাঙামাটি-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার

সকালের জলখাবার সেরে হোটেল থেকে চেক আউট। তারপর পাহাড় ঘেরা কাপ্তাই হ্রদে ২ ঘন্টার জলভ্রমণ সারা জীবনের জন্য একটি আভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। নৌভ্রমণের মধ্যেই থাকবে মাস্টারপাড়া থেকে আদিবাসীদের তৈরি নানা হস্তশিল্প সামগ্রী দেখা ও কেনাকাটার সুযোগ। এ দিনের আরেকটি বড় আকর্ষণ কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণ। পথে দেখে নেওয়া হবে চট্টগ্রামের স্বাধীনতা চত্বর ‘মিনি বাংলাদেশ’। কক্সবাজারের হোটেলে রাত্রিবাস।

নবম দিনঃ কক্সবাজার-ঢাকা

সকালে উঠে প্রাতঃভ্রমণে যেতে পারেন সৈকতে। ব্রেকফাস্টের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরো সময়টা একান্তই আপনার। বিকেলে সৈকত-সংলগ্ন পাহাড়-টিলার হিমছড়ি ইকো-পার্কে যাওয়া উচিৎ। ইকো-পার্ক থেকে সুনীল সমুদ্রে আস্তগামী সূর্যের আলোর ছটা, ফেনীল জলরাশির বিশাল বিশাল ঢেউগুলির তীরে আছড়ে পড়ার দৃশ্য আপনাকে যে বিমোহিত করবে সে কথা নিশ্চিত করেই বলা চলে। সন্ধ্যায় কক্সবাজারের সৈকত জমজমাট। হাত বাড়ালেই রকমারী সামুদ্রিক খাদ্য।

চাইলে চট্টগ্রাম থেকে জলযানে করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে বেড়িয়ে আসা যায়।

রাতারগড় জলাভূমি।

দশম দিনঃ কক্সবাজার থেকে ঢাকা

এদিন সকালে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করে ঢাকায় পৌঁছে হোটেলে বিশ্রাম। বাকি দিনটা আপনার মতো করে কাটান। শপিং করতে পারেন, পরিচিতদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারেন, ঢাকায় পছন্দের কোনও জায়গায় গিয়ে সময় কাটাতে পারেন।

মনিপুরী নৃত্য, সিলেট।

একাদশতম দিন :

ব্রেকফাস্টের পরে ফেরার উদ্যোগ। ফেরার ব্যবস্থা অনুসারে বিমানবন্দর অথবা বাস বা ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

ফটো সৌজন্যঃ স্পিড হলিডেজ।

তথ্যের জন্য ই-মেল ঠিকানাঃ t2bangladesh@gmail.com
ফোনঃ ৮৮০ ১৭১৪-০৯৪১৭৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *