Follow us
English

পালমাজুয়া থেকে শ্রীখোলা

পালমাজুয়া থেকে শ্রীখোলা

মানেভঞ্জন থেকে ধোতরে ১৭ কিলোমিটার পথ। ধোতরের উচ্চতা ২৫৯০ মিটার। ধোতরে থেকে খানিকটা ঢালু পথে আরো ৫ কিলোমিটার অতিক্রম করলে সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যানের প্রান্ত সীমায় ছবির মতো ছোট্ট গ্রাম পালমাজুয়া। নিবিড় নৈঃশব্দ ছেয়ে থাকে পালমাজুয়ায়। গ্রামে কয়েকটি পরিবারের বসতি। চতুর্দিকে পাহাড়। একটা ঝর্ণা আছে। একটা ছোট্ট সেতু আছে। রোদে ঝিকমিক করে। নানা জাতের পাখি আছে। আর আছে নির্দোষ বাতাস। প্রচুর অক্সিজেন। দিনদুয়েকের নির্ভেজাল অবকাশ যাপন করতে চাইলে পাহাড়ি গ্রাম পালমাজুয়া এক চমৎকার ঠিকানা। এখানে ঘুমপাড়ানিয়া ঝর্ণার কলধ্বনি সারারাত জেগে থাকে।

একেবারে পালমাজুয়া গ্রাম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাবেন না। ভোর ভোর গাড়ি নিয়ে চলে যান তিনশুলে। তিনচুলে নয়,তিনশুলে। এখানে জঙ্গলের পথ ধরে একটু এগোলেই সেই সোনার পাহাড়ের দেখা পাবেন। পাখি দেখার নেশা যাঁদের তাঁদের কাছে এ জায়গাটা স্বর্গরাজ্য। পালমাজুয়া গ্রাম থেকে কমবেশি আড়াই কিলোমিটার দূরে মনিখোলাতেও পক্ষীদর্শনের যথেষ্ট সম্ভাবনা।

শ্রীখোলা

হাতে একটু সময় থাকলে আর সঙ্গে গাড়ি থাকলে শ্রীখোলা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেন। গাড়িতে ঘন্টা দেড়েক সময় লাগবে। একটু থেমে থেমে গেলে ঘন্টা দুয়েক। রিম্বিক হয়ে যেতে হবে। রিম্বিক থেকে শ্রীখোলা ৪ কিলোমিটার। পালমাজুয়া থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার। মানেভঞ্জন থেকে শ্রীখোলা ৪১ কিলোমিটার। পথে পড়বে লোধমা নদী। নদীর ধার দিয়ে সেই যাত্রা একটা চমৎকার অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

সান্দাকফু,ফালুট ট্রেক করে ফেরার পথে এই শ্রীখোলাই হয়ে ওঠে বিশ্রামস্থল। সান্দাকফু ফালুট থেকে ফেরত-পথে ট্রেকিংয়ের শেষ পয়েন্ট শ্রীখোলা। গাড়ি চলাচল করে শ্রীখোলা পর্যন্তই। শ্রীখোলার উচ্চতা বেশি নয়। ৩,৬০০ ফুট। সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ। তার মধ্যে ইতিউতি ছড়িয়ে কিছু কাঠের বাড়িঘর। বাড়িগুলো সুদৃশ্য কটেজের মতো দেখতে লাগে। সামনে ছোট ছোট ফুলের বাগান। শ্রীখোলার বিশেষ আকর্ষণ তার নদীটি। নদীর নামও শ্রীখোলা। নদীর নামেই গ্রামের নাম। পাথরে ধাক্কা খেতে খেতে বয়ে চলেছে শ্রীখোলা। নদীর ধারে গিয়ে বসুন। বিশুদ্ধ বাতাসে শরীর-মনের ক্লান্তি উধাও হবে। চাইলে নদীতে মাছ ধরতে পারেন। প্রচুর ট্রাউট মাছ আছে শ্রীখোলা নদীতে। খুব সুন্দর একটা কাঠের ঝুলন্ত সেতু আছে শ্রীখোলা নদীর ওপর। সামগ্রিক পরিবেশের সঙ্গে খুব মানানসই সেতুটি। বেড়ান গ্রামের মধ্যে। একটি মনাস্ট্রি আছে শ্রীখোলা গ্রামে। সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যানের পাদদেশে শ্রীখোলা গ্রামের অবস্থান। গ্রামের প্রান্তে রয়েছে বার্চ, পাইনের বন। গ্রামের মধ্যে বড় এলাচ, ভুট্টার চাষ হয়। ফলে পাখির আনাগোনাও আছে।

শ্রীখোলা থেকে নানা দিকে ট্রেকিংয়ের সু্যোগও যথেষ্ট। শ্রীখোলা থেকে ৬ কিলোমিটার ট্রেক করে ৭,১৫০ ফুট উচ্চতার গুরদাম উপত্যকায় যাওয়া যায়। ঘন অরণ্যে ঘেরা গুরদাম উপত্যকার বন্য রুপের একটা বিশেষ সৌন্দর্য আছে। এই গুরদাম থেকে আরও ১০ কিলোমিটার ট্রেক করে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পয়েন্ট ১১,৯২৯ ফুট উচ্চতার সান্দাকফুতে পৌঁছে যাওয়া যায়। অর্থাৎ শ্রীখোলা থেকে মোট ১৬ কিলোমিটার ট্রেক করে সান্দাকফু পৌঁছে যাওয়া যাচ্ছে। আবার শ্রীখোলা থেকে ১২ কিলোমিটার ট্রেক করে রাম্মাম পৌঁছানো যায়। রাম্মামের উচ্চতা ৮,৪০০ ফুট। রাম্মাম থেকে ৯ কিলোমিটার এগলে গোর্কে গ্রাম। গোর্কে থেকে আরও ১৫ কিলোমিটার ট্রেক করে পৌঁছানো যায় ফালুট, উচ্চতা ১১,৮১১ ফুট। সান্দাকফু থেকে ফালুটের দূরত্ব ২১ কিলোমিটার।

যাওয়ার পথ

শিলিগুড়ি বা এন জে পি থেকে গোটা টুরের জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে মিরিক হয়ে যাওয়ায় ঠিক হবে। পথের দৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত কম হবে। পথের বৈচিত্র বেশি। এ পথ অনেকবারই নেপালের মধ্যে ঢুকবে। চাইলে দার্জিলিং বা ঘুম পৌঁছে সেখান থেকেও গোটা টুরের জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। দার্জিলিঙের চকবাজার থেকে মানেভঞ্জন পর্যন্ত শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। মানেভঞ্জন পৌঁছে সেখান থেকেও পালমাজুয়া অথবা পালমাজুয়া ও শ্রীখোলা ট্রিপের জন্য গাড়িভাড়া করতে পারেন। শেয়ার গাড়িতে করেও গোটা ট্রিপটা সম্পূর্ণ করা যায় অবশ্য। তাতে সময় বেশি লাগবে। খানিকটা অনিশ্চয়তাও কাজ করবে।

ইচ্ছে করলে শুধু শ্রীখোলা থেকেই বেড়িয়ে আসা যায়। সঙ্গে একটা ছোট ট্রেকিং যুক্ত করে নিলে সে ভ্রমণ হবে আরও রোমাঞ্চকর। এন জে পি স্টেশন থেকে শ্রীখোলা ১৩২ কিলোমিটার। দার্জিলিং থেকে পুলবাজার-জোরথাং রোড হয়ে শ্রীখোলা ৬১ কিলোমিটার। এন জে পি বা শিলিগুড়ি থেকে মানেভঞ্জন বা ঘুম চলে আসা যায়। ঘুম থেকে মানেভঞ্জন যাওয়ার শেয়ার গাড়ি পাওয়া যাবে। মানেভঞ্জন থেকে শ্রীখোলা ৪১ কিলোমিটার। বেলা ১টা নাগাদ শিলিগুড়ির দার্জিলিং মোড় থেকে সরাসরি শ্রীখোলা যাওয়ার শেয়ার জিপ ছাড়ে (সাধারণত)। দার্জিলিং থেকেও সকালে ও দুপুরে শ্রীখোলা যাওয়ার শেয়ার জিপ ছাড়ে। ম্যাল থেকে খানিকটা নেমে জিপ স্ট্যান্ডে গিয়ে শেয়ার জিপের খোঁজ নেবেন।

থাকার ব্যবস্থা

সিঙ্গালীলা জঙ্গল লজ পালমাজুয়ায় থাকার একটি সুন্দর ব্যবস্থা। এখানে রয়েছে দুটি দ্বিশয্যার কটেজ, দুটি ডিলাক্স রুম, একটি চার শয্যার কটেজ। যোগাযোগের নম্বর: ৮৬৭০৮৯১৫৭৪।

শ্রীখোলায়ঃ হোটেল শোভরাজ, ফোনঃ ৯৯৩৩৪-৮৮২৪৩, ৯৮৩২৩-৭৫৫৪৬। লিপ্পোহোচ্ছা হোমস্টে, ফোনঃ ৮৯৭২৮-৫৯২৩১, ৯৭৩৫০-৩৪৬২৬, পানকর্মা হোমস্টে, ফোনঃ ৭০০১৯-৬৭২৯৭। রেড পান্ডা হোটেল, হোমস্টে, ফোনঃ ৯৭৩৩০-৬১৭৯৩।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *