Follow us
English

নেত্রানী দ্বীপে স্কুবা ডাইভিং

নেত্রানী দ্বীপে স্কুবা ডাইভিং

একদিকে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা,অন্যদিকে আরব সাগর। মাঝে মুরুদেশ্বর। কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলার ভাটকল তালুকের অন্তর্গত মুরুদেশ্বর। শহরের প্রান্ত ঘেঁষে সুন্দর সৈকত। মুরুদেশ্বর এবং ভাটকলের অন্যান্য সৈকত থেকে আরব সাগরের মধ্যে দেখা যায় একটি ছোট্ট দ্বীপ। মুরুদেশ্বর সৈকত থেকে দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। এটি নেত্রানী দ্বীপ। পিজিয়ন আইল্যান্ড নামেও পরিচিত। সৈকত থেকে বোটে করে দ্বীপে পোঁছতে কমবেশি ঘন্টা দেড়েক সময় লাগে।

এই নেত্রানী দ্বীপটিকে বেড় দিয়ে আছে প্রবালপ্রাচীর। সেই প্রবাল রাজ্যে খেলে বেড়ায় রং-বেরঙের সামুদ্রিক মাছ। সব মিলিয়ে সে এক স্বপ্নের জগৎ।

স্কুবা ডাইভিং ও স্নরকেলিং-এর এক বিশেষ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে নেত্রানী। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে এই নেত্রানীতেই আয়োজিত হয়েছিল ভারতের প্রথম স্কুবা ফেস্টিভ্যাল। নেত্রানীতে স্কুবা ডাইভিং ও স্নরকেলিং চলে মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। সুইমার ও নন-সুইমার উভয়ের জন্যই স্কুবা ডাইভিং-এর ব্যবস্থা করে থাকে প্রফেশনাল এসোসিয়েশন অফ ডাইভিং ইন্সট্রাক্টরস (পি এ ডি আই) কর্তৃক অনুমোদিত সংস্থা নেত্রানী এডভেঞ্চারস।

 

 

স্কুবা ডাইভিং-এর জন্য জনপ্রতি খরচ ৪৪৯৯ টাকা। অন্তত পাঁচজনের দলের প্রতি সদস্যের জন্য খরচ ৩৯৯৯ টাকা। দলে অন্তত ১০ জন সদস্য থাকলে মাথাপিছু খরচ পড়বে ৩৪৯৯ টাকা। ৩০-৪০ মিনিটের ডাইভিং। প্রশিক্ষিত গাইডের তত্ত্বাবধানে ডাইভিং পরিচালিত হয়।

অন্য যে কোনো হোটেলে থেকেও নেত্রানীর স্কুবা ডাইভিং-এ অংশ নেওয়া যাবে।

বুকিং করতে হবে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে : http://netraniadventures.com/

মুরুদেশ্বরে পৌঁছে সংস্থার অফিসে যোগাযোগ করেও ডাইভিং-এর জন্য নাম নথিভুক্ত করা যেতে পারে। ঠিকানা: নেত্রানী অ্যডভেঞ্চারস,টেম্পল রোড, মুরুদেশ্বর,ভাটকল, কর্ণাটক-৫৮১৩৫০।
ফোন: ৯৯০০৪৩১১১১, ৯৯১৬৫৫৪৪২২

মুরুদেশ্বর ও তার আশেপাশে:

পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ল্যান্ডস্কেপ আর আদিগন্ত আরবসাগর, এই হচ্ছে মুরুদেশ্বরের প্রাকৃতিক পটভূমি। ভালো তো লাগবেই। পর্বত আর সমুদ্রের মাঝে কন্ডুকাগিরি টিলার চূড়ায় ১২৩ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তিটি সন্ধ্যায় যখন আলোর রোশনাইয়ে রঙিন হয় তখন মুরুদেশ্বরের আরেক রূপ। কন্ডুকাগিরি টিলার তিনদিকেই আরব সাগরের বিস্তার। প্রসঙ্গত,মুরুদেশ্বরের শিবমূর্তিটি দ্বিতীয় উচ্চতম শিবমূর্তি। উচ্চতম কৈলাশনাথ মহাদেবের মূর্তিটি রয়েছে নেপালে।

 

সৈকত লাগোয়া রাজা গোপুরম চালুক্য ও কদম্ব স্থাপত্যশৈলীর দারুন এক নিদর্শন। ২০ তলার এই মন্দিরটির উচ্চতা ২৩৭.৫ ফুট। লিফটে চড়ে মন্দিরের ১৮ তলা পর্যন্ত ওঠা যায়। সেখান থেকে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও আরবসাগরের নীল জলের বিস্তার আপনাকে মোহিত করবেই।

 

 

দিনমানের বেশিরভাগ সময়ই আপনার কেটে যাবে মুরুদেশ্বর সৈকতে। সৈকত থেকে দেখবেন আরবসাগরে অসাধারণ সূর্যাস্ত। সন্ধ্যায় মুরুদেশ্বর আলোকমালায় সেজে ওঠে। গোপুরমে মঙ্গলারতি দেখতে ভালো লাগবে।

সৈকত, জলপ্রপাত

সৈকত ভ্রমণ যদি আপনাকে বিশেষভাবে টানে তাহলে চলে যেতে পারেন বাইলুর সৈকত। মুরুদেশ্বর থেকে দূরত্ব ৭ কিলোমিটার। বাইলুর গ্রামটিও ঘুরে নিতে পারেন একই যাত্রায়।

সবুজ পাহাড় আর জঙ্গলের কোল ঘেঁষে সাদা বালির সুন্দর মানকি সৈকত ভ্রমণ এক দারুন অভিজ্ঞতা হতে পারে। মুরুদেশ্বর থেকে দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। মুরুদেশ্বর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আরেকটি সুন্দর সৈকত, নাখুদা বিচ। মুরুদেশ্বর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বহু পুরানো ভাটকল শহরটি বেরিয়ে নিতে পারেন।
হাতে সময় থাকলে কর্ণাটকের শিবামোজ্ঞা জেলায় যোগ জলপ্রপাত দেখে আসতে পারেন। মুরুদেশ্বর থেকে ৯০ কিলোমিটার। ভারতের দীর্ঘতম জলপ্রপাত। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা শরাবতী নদীর উৎস। শরাবতী পাহাড়ের ৮২৯ ফুট উচ্চতা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে চারটি ধারায়। বর্ষার মরশুমে তার ভয়ঙ্কর সুন্দর রুপ।

 

মুরুদেশ্বর থেকে গোকর্ণ সড়কপথে ৭৮ কিলোমিটার। শুধু গোকর্ণতেই উত্তর থেকে দক্ষিণে অনেকগুলো নয়নাভিরাম সৈকত। সবগুলিতে যাওয়া সম্ভব না হলেও গোকর্ণ বিচ, ওম বিচ, হাফমুন বিচ, কুডলে বিচ এবং প্যারাডাইস বিচ দেখুন, মন ভরে যাবে। এ ছাড়াও আছে নির্বান বিচ, বাদা বিচ, স্মল হেল বিচ, বেলেকন বিচ। মুরুদেশ্বর থেকে আরেক মন্দিরনগরী উদুপি ১০০ কিলোমিটার। উদুপির মালপে সৈকত থেকে যাওয়া যায় আরব সাগরের সেন্ট মেরিজ আইল্যান্ডে।

 

যাওয়ার পথ :

কলকাতা থেকে ট্রেনে ম্যাঙ্গালোর। সেখান থেকে সড়কপথে মুরুদেশ্বর ১৬৩ কিলোমিটার। সাঁতরাগাছি-ম্যাঙ্গালোর বিবেক এক্সপ্রেস সাঁতরাগাছি থেকে ছেড়ে তৃতীয় দিন সকালে ম্যাঙ্গালোর পৌঁছোয়। চাইলে ম্যাঙ্গালোর থেকে ট্রেনেও মুরুদেশ্বর যাওয়া যায়। ট্রেনপথে ম্যাঙ্গালোর-মুরুদেশ্বর দূরত্ব ২৬১ কিলোমিটার। নেত্রাবতী এক্সপ্রেস,মৎস্যগন্ধা এক্সপ্রেস,কারওয়ার এক্সপ্রেস,মারগাওঁ এক্সপ্রেস প্রভৃতি ট্রেন মুরুদেশ্বর যায়। ব্যাঙ্গালোর থেকে সড়কপথে মুরুদেশ্বরের দূরত্ব প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। ম্যাঙ্গালোর এয়ারপোর্ট মুরুদেশ্বরের নিকটতম বিমানবন্দর।

থাকার ব্যবস্থা:

হোটেল মুরুদেশ্বর ইন্টারন্যাশনাল – ফোন : ৯৩৪৩৩৯২৭৭৭। শ্রীবিনায়ক রেসিডেন্সি -ফোন : ৯৫৩৫৯৬১৪৫৫। আর এন এস রেসিডেন্সি-ফোন : ৮৩৮৫২৬৮৯০১। কামাথ যাত্রী নিবাস-ফোন : ৯৪৪৮৩১৮৪৭১, ৯৫৩৮৭৩৭৭৭৮। আরিয়ানা গেস্ট হাউস-ফোন : ৯৮৪৪০২২৯১৫।

নেত্রাণী এডভেঞ্চার্স সংস্থার মাধ্যমে নেত্রাণী দ্বীপে স্কুবা ডাইভিং বুক করলে এই সংস্থাও মুরুদেশ্বর সৈকত লাগোয়া নানা মান ও দামের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। ফোন : ৯৯০০৪৩১১১১, ৯৯১৬৫৫৪৪২২।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *