Follow us
Search
Close this search box.

কল্পা থেকে টাবোর পথে যাত্রা

কল্পা থেকে টাবোর পথে যাত্রা

 

   সুব্রত ঘোষ

গ্রীষ্মে হিমাচল প্রদেশের স্পিতি সার্কিটে বেড়ানোর কথা। তৃতীয় পর্ব –

সকালে ছিটকুলে খানিক বেড়িয়ে এবং দ্বিপ্রাহরিক আহার সেরে কল্পার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম। ছিটকুল থেকে কল্পা ৭৭ কিলোমিটার। হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার সদর শহর এবং অতীব সুন্দর পাহাড়ি শহর রেকং পিওয় ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যায় ৯,৭১১ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কল্পায় পৌঁছেছিলাম। রাত্রিবাস  হোটেলে রাকপা রিজেন্সিতে। সকালে হোটেলের লন থেকে কিন্নর কৈলাশ শৃঙ্গের চমৎকার দর্শন পাওয়া গেল। আঞ্চলিক মানুষের বিশ্বাস, কিন্নর কৈলাশ শৃঙ্গ ভগবান শিবের  শীতকালীন আবাস।

আজ ৩১ মে, ২০২৫। ব্রেকফাস্ট সেরে বেড়িয়ে পড়লাম কল্পার পথে। রেকং পিও থেকে খানিক উপরে কল্পার জনপদ।  দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। প্রধাণত কিন্নরি জনজাতির মানুষের বসবাস কল্পায়। কোন সুদূর সময় থেকে পাহাড়ের অন্দরে বসবাস এই জনগোষ্ঠীর। রয়েছে নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জোরালো সব সাক্ষর। শীতে ভারী তুষারপাত হয় কল্পায়। আপেলের বাগান কল্পা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের আয়ের একটা বড় উৎস।

 

গিয়েছিলাম কল্পার রোঘি গ্রামে। এই গ্রাম থেকে কিন্নর কৈলাশ রেঞ্জের সঙ্গে শতদ্রু নদীর প্রবাহ দেখা যায়। বাড়িঘরের স্থাপত্যে হিমাচলী রীতি খুব চোখ টানে। সব মিলিয়ে নিজস্ব সমস্ত বৈশিষ্ট-সহ রোঘি পর্বত-অন্দরের চমৎকার একটি গ্রাম। এই জায়গাগুলিতে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটেছে। কল্পায় বৌদ্ধ মনাস্ট্রি আছে, দুর্গা মন্দিরও আছে। কল্পা ভিউ পয়েন্ট পর্যটকদের কাছে একটি বিশেষ আকর্ষণ। ভিউ পয়েন্ট থেকে পাহাড়, নদীর যুগলবন্দির দৃশ্য সত্যিই হতবাক করে দেওয়ার মতোই। বড় বড় কয়েকটি আপেল বাগান দেখা হল। বিকেলে হোটেলে ফিরলাম। মে মাসের শেষ দিনে কল্পার তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।

পরের দিন (১/৬/২০২৫) সকাল সকাল টাবোর উদ্দেশে রওনা  গেল। কল্পা থেকে টাবো ১৯১ কিলোমিটার। উচ্চতা ১০,৭০০ ফুট। রেকং পিও ও কাজার মাঝে স্পিতি নদীর তীরে লাহুল-স্পিতি জেলার এই ছোট্ট শহরটির অবস্থান। সুউচ্চ সব পাহাড়ের মাঝে মাঝে এই জনপদগুলি পর্যটকদের কাছে আবিষ্কারের মতো। লাদাখের মতো হিমাচল প্রদেশের লাহুল-স্পিতিও ‘শীতল মরুভূমি’ নামে পরিচিত। টাবো তারই একাংশ।

কল্পা থেকে টাবো ১৯১ কিলোমিটার। উচ্চতা, ১০ হাজার ফুট। পথে খাব নামের একটা জায়গায় গাড়ি দাঁড়ালো। শতদ্রু নদী উপত্যকার একটি গ্রাম খাব। এখানে শতদ্রু ও স্পিতি নদীর সঙ্গম দেখা হল। পরের গন্তব্য ছিল সাড়ে  ৯ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত নাকো লেক। ১০০টি সিঁড়ি ভেঙে হ্রদের কিনারে পৌছোতে হয়।

পথে মুনল্যান্ড নামে পরিচিত একটি জায়গায় ফের গাড়ি থামল। নাকো থেকে ৬৫-৭০ কিলমিটার দূরের  প্রস্তরময় এই জায়গাটার ল্যান্ডস্কেপ স্পিতি উপত্যকার বৈচিত্রের জানান দেয়। পাললিক শিলা যুগের পর যুগ ধরে ক্ষয়ে নানা রকমের আকার ধারন করেছে এখানে। চাঁদের পাহাড় কি এরকমটা?

 

গিয়েছিলাম গিউ গ্রামে। এখানে একজন লামার মমি  রাখা আছে। একটি মনাস্ট্রিও আছে। সন্ধ্যায় টাবোয় পৌঁছালাম। উঠেছিলাম হোটেল ট্রোজানের মাড হাউসে। ঠান্ডা ভালোই।

চলবে  –

ফটোঃ লেখক।

 

আগের দুই পর্ব

সারাহানের ভীমকালী মন্দির হিমাচলী ঐতিহ্যের স্বাক্ষরও

 

সারাহান থেকে ছিটকুল, রেকং পিও হয়ে কল্পায়

Comments are closed.