Follow us
Search
Close this search box.

বেড়িয়ে দেখা টোকিও শহর

বেড়িয়ে দেখা টোকিও শহর

কলকাতা থেকে ব্যাঙ্কক হয়ে জাপানের রাজধানী টোকিওয় পৌঁছেছিলাম ১ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে। বসন্তের জাপান। এ সময়ে জাপানে চেরি ফুলের সমারোহ তথা চেরি ব্লজম দেখার জন্য প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। প্রথম পর্বের ‘টোকিওর শিনজুকু উদ্যানে চেরি ব্লজম’ শীর্ষক লেখাটিতে চেরি ফুলের সেই উৎসবমুখর পরিবেশের কথা জানিয়েছি। এবার টোকিও শহরের খানিক বেড়িয়ে দেখার প্রসঙ্গ।

২ এপ্রিল হোটেলে ব্রেকফাস্ট সেরে শহর দেখার জন্য বেরিয়ে পড়া গেল। প্রথমে টোকিওয় বেড়িয়ে দেখা কয়েকটি জনপ্রিয় জায়গার কথা জানিয়ে রাখি। আসাকুশা কান্নন সেনসোজি টেম্পলঃ কথিত আছে সুমিদা সুমিদ নদী থেকে করুণার দেবী কান্ননের মূর্তি পাওয়া যায় ৬২৮ সাল নাগাদ এবং তার প্রতিষ্ঠা ঘটে এখানে। মন্দির তৈরি হয়। এটিই টোকিওর প্রাচীনতম মন্দির। বিদ্যুৎ ও বাতাসের দেবতার মূর্তি দেখা যায় এখানে। মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বার, প্রাচীণ লাল-লন্ঠন, পাঁচতলার প্যাগোডা বিশেষ করে চোখ টানবে। ‘ইনসেন্স এরিয়া’ নামের একটি জায়গা আছে, সেখানে প্রচুর ধূপ জ্বলছে দেখলাম। ধূপের গন্ধে ‘ম ‘ম চত্বরটা। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানকার ধূপের ধোঁয়ার স্পর্শে, আঘ্রাণে রোগ-বালাই দূর হয়।

টোকিওর কেন্দ্রস্থলে জাপান সম্রাটের প্রাসাদটি টোকিওর অন্যতম দ্রষ্টব্যস্থল। টোকিও স্টেশন থেকে হেঁটেই যাওয়া যায়। বিশাল এক পার্কের মধ্যে প্রাসাদ। জাপানের সম্রাট ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রধান আবাস এই প্রাসাদ। জাপানি স্থাপত্যরীতিতে তৈরি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এই প্রাসাদ। পুননির্মিত হয় পুরনো স্থাপত্য ঘরানা মেনে। ধ্বংসস্তূপকে পুনর্গঠিত করার কাজে জাপানিদের জুড়ি মেলা ভার।

গিয়েছিলাম বহুশ্রুত রেনকোজি মন্দিরে। প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির। প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৫৯৪ সালে। মন্দির চত্বরে সোনালি রংয়ের একটি প্যাগোডায় ‘নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর চিতাভস্ম’ রক্ষিত রয়েছে বলে কথিত রয়েছে। নেতাজির-ই চিতাভস্ম কিনা তা নিয়ে প্রবল বিতর্ক রয়েছে। নেতাজির একটি ব্রোঞ্জ মূর্তিও রয়েছে এখানে।

টোকিও স্কাই-ট্রি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ৬৩৪ মিটার উচ্চতার একটি মিনার। এখান থেকে রেডিও ও টিভি প্রোগ্রাম সম্প্রাচারিত হয়। একই সঙ্গে এটি একটি নজর মিনারও। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা ও এবং মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের ১২৮ তলা বিশিষ্ট মেরডেকা অট্টালিকার পরে টোকিও স্কাই-ট্রি তৃতীয় উচ্চতম স্থাপনা। মিনারের ৪৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত টেমবো গ্যালেরিয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ যেতে পারেন। এখান থেকে টোকিও শহরটাকে পাখির চোখে দেখা যায়। আবহাওয়া ভালো থাকলে এই মিনার থেকে মাউন্ট ফুজির দর্শন মেলে। মিনারটিকে ঘিরে রয়েছে বিশাল বিশাল সব শপিং মল। ফলে জায়গাটি একটি জনপ্রিয় শপিং কেন্দ্রও বটে।

জাপান সফরের তৃতীয় দিনে গিয়েছিলাম টোকিওর ডিজনিল্যান্ডে। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্বখ্যাত থিম পার্ক ডিজনিল্যান্ডের আদলে তৈরি টোকিও ডিজনিল্যান্ড চালু হয় ১৯৮৩ সালের ১৫ এপ্রিল। ঢুকতেই থিম এরিয়া ওয়ার্ল্ড বাজার। দুর্দান্ত সব শোরুম রয়েছে এখানে, রয়েছে প্রচুর রেস্তোরাঁ। খুব জমজমাট জায়গাটা। টুমরোল্যান্ড, ফ্যান্টাসিল্যান্ড, টুনতাউন, ক্রিটার কান্ট্রি, ওয়েস্টারল্যান্ড, অ্যাডভেঞ্চারল্যান্ড নামের থিম এলাক নিয়ে টোকিও ডিজনিল্যান্ড খুব জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র।

বেড়াচ্ছি টোকিও শহরের এ-প্রান্ত থেকে সে-প্রান্ত, আর অবাক হয়ে দেখছি জনবহুল শহরটির পরিচ্ছন্নতা, মানুষজনের শৃঙ্খলাবোধ। তরুণ-তরুণীদের বয়স্কদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের রীতি দেখে খুব ভালো লেগেছে। শহর বেড়াতে বেড়াতে চোখে পড়ছিল যেন আকাশপানে পাখা মেলে চেরিফুলের গুচ্ছ।

ক্রমশঃ

ফটোঃ ১) স্কাই ট্রি থেকে দেখা টোকিও শহর (ফটো সৌজন্য টোকিও গাইড)। ২) টোকিও ইম্পিরিয়াল প্যালেসের অভ্যন্তরে (ফটো সৌজন্য টোকিও গাইড)। ৩) রেনকোজি মন্দির চত্বরে লেখক। ৪) টোকিও ডিজনিল্যান্ড ও চেরি বাগিচার ফটোঃ লেখক)।

প্রথম পর্বের ‘টোকিওর শিনজুকু উদ্যানে চেরি ব্লজম’ লেখাটি পড়তে পারেন এই লিঙ্কে
https://torsa.in/cherry-blossom-in-tokyo

Comments are closed.