Follow us
English

জাম্পুই পাহাড়, ঊনকোটির ত্রিপুরায়

জাম্পুই পাহাড়, ঊনকোটির ত্রিপুরায়

উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত। পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে মিজোরাম ও অসম। এই পরিসীমার মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের ছোট্ট পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরা। সম্প্রতিক কালে রাজনৈতিক কারণে বারবার সংবাদে এসেছে ত্রিপুরা। রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘রাজর্ষি’র প্রেক্ষাপট ত্রিপুরার শান্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অনুপম স্থাপত্যশৈলীর সব প্রাসাদ, লেক, জাম্পুই পাহাড়, ঊনকোটির বিষ্ময়কর সব পাথর-খোদাই ভাস্কর্য, সঙ্গে আদিবাসী সংস্কৃতি, হস্তশিল্প সামগ্রীর সূক্ষ্মতা, ত্রিপুরা ভ্রমণের নানা দিক। কীভাবে বেড়াবেন, কোথায় কোথায় যাবেন, রাত্রিবাস কোথায় কোথায়, এ সব তথ্য নিয়ে ত্রিপুরা ভ্রমণের সুচিন্তিত পরিকল্পনা ছকেছেন তুষার পাত্র।

কী ভাবে যাবেন

প্লেন বা ট্রেনে আগরতলা। প্লেনে গেলে তো ঘন্টাখানেক, খুব বেশি হলে সোয়া ১ ঘন্টায় আগরতলা এয়াপোর্ট বা মহারাজা বীরবিক্রম বিমানবন্দরে পৌঁছে যাবেন। শিয়ালদা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস (১৩১৭৩) সপ্তাহে ৪ দিন (মঙ্গল, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার) আগরতলা যাচ্ছে।

কোথায় কোথায় বেড়াবেন

আগরতলা, উজ্জয়ন্ত প্যালেস, আখাউড়া চেকপোস্ট, জাম্পুই হিল, ঊনকোটি, ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির, নীরমহল, কমলাসাগর লেক, কসবা কালিবাড়ি, সিপাহীজলা অভয়ারণ্য।

ভ্রমণসূচি

প্রথম দিন

শিয়ালদহ থেকে সকাল ৬.৩৫ মিনিটে ১৩১৭৩ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রসে আগরতলার উদ্দেশ্যে যাত্রা।

দ্বিতীয় দিন

রাত্রি ৮.৪৫ মিনিটে আগরতলায় নেমে সোজা হোটেলে। আগরতলার হোটেলে রাত্রিবাস।

তৃতীয় দিন

আজ আমরা দেখব আগরতলা এবং আশেপাশের কিছু জায়গা। যেমন উজ্জয়ন্ত প্যালেস, কুঞ্জবন প্রাসাদ,বেনুবন বৌদ্ধ বিহার, হেরিটেজ পার্ক। বিকেলে দেখব ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আখাউড়া চেকপোস্টে প্যারেড। এ দিনও আগরতলায় রাত্রিবাস।

চতুর্থ দিন

আজ আগরতলা থেকে আমরা যাব জাম্পুই হিল। দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। জাম্পুই পর্বতাঞ্চলকে ত্রিপুরার দার্জিলিং বলা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা প্রায় তিন হাজার ফুট। পৌঁছে বিকেলে হিলটপ থেকে দেখুন অপরূপ সূর্যাস্ত। এখানে ইডেন টুরিস্ট লজে রাত্রিবাস।

জাম্পুই হিল ফটো: পি. সুরভী

পঞ্চম দিন

সকালে জাম্পুই পাহাড় থেকে সূর্যোদয় দেখা। তারপর সারাদিন আশেপাশের স্পটগুলো ঘুরে দেখা। ত্রিপুরা আর মিজোরামের সীমান্তবর্তী আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকাটি দেখে আসতে পারেন। এখানকার কমলালেবু বিখ্যাত।প্রতিবছর এখানে অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যাল হয়। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে আশ্চর্য করবেই। জাম্পুইতেই রাত্রিবাস।

ষষ্ঠ দিন

আজকে জাম্পুই থেকে আমরা যাব ঊনকোটি। দূরত্ব ৮৮ কিলোমিটার। পৌঁছে ঊনকোটি দর্শন।এক কোটি থেকে এক কম, তাই নাম ঊনকোটি। ত্রিপুরার উত্তর সীমান্তে অরণ্য ঘেরা রঘুনন্দন পাহাড়ের পাথরে খোদিত নানা দেব-দেবীর মূর্তির ভাস্কর্য এক বিষ্ময়। অনেকেই বলেন ঊনকোটি না দেখলে ত্রিপুরা ভ্রমন বৃথা। এপ্রিল মাসে ঊনকোটিতে অশোকাষ্টমী মেলা আয়োজিত হয়। প্রচুর জনসমাগম হয় মেলায়। ঊনকোটি থেকে কৈলাশহরে এসে রাত্রিবাস।

ঊনকোটির আশ্চর্য্য সব পাথরের ভাস্কর্য ফটো: পি. সুরভী

সপ্তম দিন

আজ ঊনকোটি থেকে রওনা হয়ে যাবো উদয়পুর। দূরত্ব ১৯৫ কিলোমিটার। দেখব ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির। এই মন্দির ৫১ সতীপীঠের অন্যতম পীঠ। দেখব ভূবনেশ্বরী মন্দিরটিও। এ দিন উদয়পুরে রাত্রিবাস।

ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির

অষ্টম দিন

উদয়পুর থেকে আজ আমরা যাব নীরমহল। দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। রুদ্রসাগর লেকের মাঝে অনুপম স্থাপত্যশৈলীর বিশালাকার নীরমহল প্রাসাদ বা লেক প্যালেস এখানকার মূল আকর্ষণ। এ দিন সাগরমহল টুরিস্ট লজে রাত্রিবাস।

নবম দিন

আজ হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে সোজা সিপাহিজলা অভয়ারণ্য। এই আভয়ারণ্যে বিপন্ন প্রজাতির চশমা বাঁদরের দেখা মিলতে পারে। এরপর দর্শন করতে পারেন কসবা কালিবাড়ি। কমলাসাগর সেই পঞ্চদশ শতকে খনন করা একটি লেক। তৈরি করিয়েছিলেন ত্রিপুরারাজ বীরমাণিক্য। কমলাসাগর লেক বেড়িয়ে ফিরে আসুন আগরতলায়।

সিপাহিজলা অভয়ারণ্য

হাতে সময় থাকলে চলে যান ‘পূর্বাশা’। আগরতলার ইন্দিরানগরে ত্রিপুরা সরকারের এই হ্যান্ডিক্রাফটস এম্পোরিয়াম রয়েছে ত্রিপুরার হস্তশিল্পসামগ্রীর বৈচিত্রময় বিশাল সম্ভার।

এই নবম দিনেই সন্ধ্যার বিমানে পৌঁছে যেতে পারেন কলকাতায়। ট্রেনে আসতে চাইলে নবম রাতটা আগরতলায় থেকে পরের দিন ভোরে ধরুন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। তার পরেরদিন, অর্থাৎ একাদশতম দিনে বিকেলে পৌঁছে যাবেন শিয়ালদহ।

থাকার ব্যবস্থা

আগরতলাঃ গীতাঞ্জলী টুরিস্ট গেস্টহাউস, ফোন ০৩৮১-২৪১-০০০৯। হোটেল সোনার তরী, ফোন ০৩৮১-২৩২-২২০১। হোটেল সিটি সেন্টার, ফোন, ০৯৯০৩২৮৮৪৮২। হোটেল জিঞ্জার, ফোন ০৩৮১-২৪১-১৩৩৩। হোটেল হেভেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ফোন ০৩৮১-২৩৮-৪৬৩৮।

জাম্পুইঃ ইডেন টুরিস্ট লজ, ০৩৮২৪-২৯০-৮৮৮। হোটেল কল্পতরু ইন, ফোন ০৩৮২৪-২৬১-১২২। এম জে হোমস্টে, ফোন ৮৭৯৪৮-৪৩৪১৯।

কৈলাশহরঃ হোটেল নির্মলা, ফোন ০১২৪৬২০১১৮৬। লোকনাথ গেস্টহাউস, ফোন ০৬০৩৩২৭৮৭২৭।

উদয়পুরঃ হোটেল রয়্যাল ইন, ফোন ০৯৮৫৬০৪২৪২৭। দি ইম্পিরিয়াল হোটেল, ফোন ০৯০৮৯৭৩১৭৩০। পোলো লেক রিসর্ট, ফোন ০৯১২৩৬১৩৮০৪।

ত্রিপুরা পর্যটনের কলকাতা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ০৩৩-২২৮২-৫৭০৩।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *