

কালিম্পংয়ের নতুন ভ্রমণ ঠিকানা আলগাড়া। অফবিট ডেস্টিনেশন বলা চলে। কালিম্পং থেকে লাভা যেতে হলে এই আলগাড়া হয়েই যেতে হয়। কালিম্পং থেকে জায়গাটা ১৫ কিলোমিটার। কালিম্পংয়ের পূর্বদিকে আলগাড়ার অবস্থান। উচ্চতা ৫,৮০০ ফুট। আঞ্চলিক মানুষজনের সচেতন ও আন্তরিক প্রয়াসে আলগাড়া প্রকৃতই পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ধূপি ও পাইনের জঙ্গলে ঘেরা আলগাড়ার উপত্যকায় চাষ-আবাদ হয়। উপর থেকে খুব সুন্দর সে দৃশ্য। যত্রতত্র ফুলের ঝাড়। ফুলের চাষও হয় আলগাড়ায়। প্রধাণত নাপালি ও লেপচাদের বসবাস আলগাড়ায়। কিছু ভুটিয়াও থাকেন। ফলে একটা মিশ্র সংস্কৃতির আবহ গড়ে উঠেছে আলগাড়ায়।

প্রধাণত পাইনের বন এখানে। বিভিন্ন প্রকার পাখির দর্শন পাওয়া যায়। আছে প্রচুর প্রজাপতিও। আলগাড়ায় কাছেই রয়েছে লেপচা রাজা গিয়াবু আচুকের তৈরি ডামসাং ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ। ভুটানের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য ১৬৯০ সালে তৈরি করা হয়েছিল এই দুর্গটি। অনেক লোককথা যুক্ত হয়ে আছে ডামসাং ফোর্টের সঙ্গে। আলগাড়া থেকে ৩০-৪০ মিনিটের হাঁটাপথে যাওয়া যায় ঝান্ডিদাড়ায়। এখান থেকে যেমন কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জ তেমন রংপো নদীর প্রবাহ-পথ দেখা যায়। ঝান্ডিদাড়া থেকে যেমন সূর্যোদয়ের শোভা দেখবেন তেমন সানসেট পয়েন্ট থেকে দেখবেন সূর্যাস্তের অসাধারণ দৃশ্য। আলগাড়ার খুব কাছেই সম্পলদাড়া। এই সম্পলদাড়া থেকে উপত্যকার বিস্তার আশ্চর্য হয়ে দেখতে হয়। সিকিমের নাথুলা রেঞ্জ দেখা যায় এখান থেকে।
আলগাড়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রয়েছে কালিম্পংয়ের ভ্রমণ ঠিকানায় যাওয়ার পথগুলি। আলগাড়া থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের কালিম্পং শহর থেকে বেড়িয়ে আসা যায় দিনে দিনে। আলগাড়া থেকে রিকিসুম ৫ কিলোমিটার, রামধুরা ৬ কিলোমিটার, ইচ্ছেগাঁও ৮কিলোমিটার, সিলারিগাঁও ৮ কিলোমিটার, লাভা ১৬ কিলোমিটার, রিশপ ১৭ কিলোমিটার, লোলেগাঁও ৩৪ কিলোমিটার। আলগাড়া থেকে দিনে দিনে বেড়িয়ে আসা পেডং, ঋষিখোলা থেকে।
এন জে পি স্টেশন থেকে আলগাড়া ৮৩ কিলোমিটার। সরাসরি প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে চলে আসা যায়। খরচ কমাতে চাইলে বাসে বা শেয়ার গাড়িতে চলে আসুন কালিম্পং। প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে কালিম্পং থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে চলে আসুন আলগাড়ায়।
পাইনউড হোমস্টে, ফোনঃ ৯৪৩৪৩-৮৩৯৮৩। দি পোটালা হোমস্টে, ফোনঃ ৯৭৪৯৩-৩৩৩৯২। অর্গানিক ইডেন, ৯০৬৪৮-১১৬৯২। লোনলি প্ল্যানেট হোমস্টে, ফোনঃ ৯০০২৭-৫৫৩২৩। দাদুল হোমস্টে, ফোনঃ ৮০১৬১-৮৮৫৫৮, ৯৭৩৩৪-০৮৫৭৩।
কালিম্পংয়ের ২০ কিলোমিটার উত্তরে একটি পাহাড়ের উপরে ছোট, শান্ত গ্রাম রিকিসুম। উচ্চতা ৬,০০০ ফুট। আলগাড়া থেকে রিকিসুমের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। নেওড়া ভ্যালির প্রান্ত ঘেঁষে রিকিসুম গ্রামের অবস্থান। গ্রামের পিছনে নেওড়া উপত্যকার পাইন, ধুপির সবুজ অরণ্য। অল্প কিছু বাড়িঘর। রাস্তার ধারে ধারে চেনা-অচেনা ফুলের ঝাড়। অন্য পাশে খাদ।

রিকিসুম গ্রাম থেকে ভোর ভোর (অবশ্যই সূর্য ওঠার আগে) ২ কিলোমিটার ট্রেক করে চলে আসুন ব্রিটিশ আমলে তৈরি রেনি সাহেবের বাংলো চত্বরে। ক্যাপ্টেন রেনির বিবেচনাকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জে যে সূর্যোদয় দেখবেন তা চিরকালের জন্য মন-ক্যামেরায় ধরা থাকবে। বাংলো এলাকা থেকে ভুটান, সিকিম, নেপালের নানা শৃঙ্গ, তিব্বতের একাংশ, নাথু-লা পাস, জেলেপ-লা পাস দেখবেন।
এন জে পি স্টেশন থেকে আলগাড়া হয়ে ৮৮ কিলোমিটার। সরাসরি প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন। কালিম্পং পর্যন্ত বাসে বা শেয়ার গাড়িতে এসে সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে রিকিসুম চলে আসা যায়।
রিকিসুম হামরো হোম হোমস্টে, ফোনঃ ৯৭৩৩০-৬৫৯০০ (www.humrohome.com)। স্বর্ণশিখর হোমস্টে, ৯৪৩৩০-০৩০৮০, ৯৯৩২৭-৭৫৩১৯।
কালিম্পঙের বার্মিয়াক ডিভিশনের ছোট্ট শান্ত গ্রাম রামধুরা খুব তাড়াতাড়িই পর্যটকদের মন জয় করেছে। এর একটা বড় কারণ রামধুরার অবস্থান। ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে কালিম্পঙের নিখাদ সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায় এই রামধুরা থেকে। রামধুরার নীচের দিকে গভীর জঙ্গল। দূরে উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা। আর রামধুরার যে কোনো প্রান্ত থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান।

রামধুরায় থেকেই বেড়িয়ে নেওয়া যায় কালিম্পঙের বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র। ডেলো পার্কের দূরত্ব বড়জোর ৮ কিলোমিটার। কালিম্পঙ শহর ১১ কিলোমিটার। দিনে দিনেই কালিম্পঙ শহর ও তার আশেপাশের দ্রষ্টব্যগুলো দেখে নেওয়া যায়। রামধুরার খুব কাছেই আলগাড়া বাজার। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আলগাড়া। দেখবেন দুরপিন দাড়ার মনাস্ট্রি। দুরপিন দাড়া একটি চমৎকার ভিউ পয়েন্ট।

রামধুরা থেকে ঘুরে নেওয়া যায় ইচেগাঁও (ইচ্ছেগাঁও), পেডং। চাইলে ইচ্ছেগাঁও থেকে হাঁটাপথে যাওয়া যায় সিলারগাওঁ। ছোটখাটো ট্রেকিং হবে। ঘন্টাখানেক সময়ে লাগে।
আর হ্যাঁ, নীল আকাশ আর ঘন সবুজ জঙ্গলের প্রেক্ষাপটে রংবেরঙের হোমস্টে, রঙিন ছাতা, পথের ধারে ধারে ফুলের ঝাড়, সবমিলিয়ে রামধুরা বড় বর্ণময়।
রামধুরা এন জে পি থেকে ৮৯ ও শিলিগুড়ি থেকে ৮৬ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি বা এন জে পি থেকে গাড়ি ভাড়া করে সরাসরি চলে আসা যায় রামধুরায়। আবার শেয়ার গাড়িতে কালিম্পঙ এসে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করেও রামধুরায় চলে আসা যায়।
রামধুরায় বেশ কিছু হোমস্টে আছে। খাদের ধারে ধারে গড়ে ওঠা সব হোমস্টে থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।
খালিং হোমস্ট: ৯৯৩৩৮০৩১৮৭, ৮৭৫৯১৯২৬৩৩।
ভুটিয়া হোমস্ট: ৮৩৭১৯৮৭৬১৯, ৯৬৪৭৩৩৩৫৮৮।
কনিফার্স হোমস্টে: ৯৮৩০১৫২১৬৯, ৯৮৩০৮৮০৯৯৯।
স্প্রিং ভেল রিসর্টস: ৯৮৩০১০৭৮৭৯।