Follow us
Search
Close this search box.

থাকার ব্যবস্থা চৌধুরীদের ৪০০ বছরের প্রাচীন বাড়িতে

থাকার ব্যবস্থা চৌধুরীদের ৪০০ বছরের প্রাচীন বাড়িতে

তোর্সা ডট ইন প্রতিনিধিঃ বর্ধমানের মেমারি রেল স্টেশন থেকে রিক্সা বা টোটোয় ৪ কিলোমিটার। পৌঁছালেন বাংলার এক প্রাচীন গ্রামে। গ্রামের নাম আমদপুর। কলকাতা থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে আমদপুর ৯০ কিলোমিটার।

তারপর ঢুকে পড়বেন ‘বাবুদের পাড়া’য়। জমিদার পাড়া ছিল এককালে। অঞ্চলে বাবুদের পাড়া নামে স্মৃত এখনও। চৌধুরীদের জমজমাট জমিদার বাড়ি ছিল ও-পাড়ায়। । তা সে জমিদারি ব্যবস্থার অবলুপ্তি ঘটে গিয়েছে কোন কালে। ৪০০ বছরের পুরনো বিশাল জমিদার বাড়িটি রয়েছে। তার বিরাট ছাদের নিরালায় জোছনা নামে। আলো ফোটে।

চোধুরীদের বর্তমান প্রজন্ম বড় মমতায় আগলে রেখেছেন দীর্ঘ ইতিহাসের চিহ্নগুলিকে। বর্ধমানের মেমারির আমদপুরের সেই জমিদারবাড়িতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে অতিথিদের জন্য। হেরিটেজ হোমস্টে।

চৌধুরী পরিবারের বর্তমান সদস্য শিলাদিত্য চৌধুরী তাঁদের পৈতৃক বাড়িটিকে একটি ঐতিহ্যের অতিথিনিবাসের রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই উদ্যোগে যত্ন রয়েছে। ভারতীয় রাগ সঙ্গীতের ভক্ত শিলাদিত্যবাবুদের যৌথ পরিবার এখনো। বসবাস কলকাতায়। শিলাদিত্যবাবু জানাচ্ছেন, আমদপুরের বাড়িটির বয়স ৪০০ বছর তো বটেই। মেরামত ইত্যাদির ক্ষেত্রে বাড়ির প্রকৃত চেহারাটি অক্ষুন্ন রাখার যথাসম্ভব চেষ্টা থাকে।

সেই প্রাচীন ভবনের অন্দরে রয়েছে কয়েক শতকের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের হরেক চিহ্ন। আর বাংলার দীর্ঘ লালিত রন্ধন সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যাবে খাওয়ার পাতে।

চৌধুরীবাড়ির আতিথি আবাসে কর্মরতদের বেশির ভাগই অতীতের জমিদারবাড়ির কর্মীদের বর্তমান বংশধর। এ বাড়ির অতীত গরিমা, আদবকায়দা তাঁদের একেবারে অজানা নয়। হেরিটেজ হোমস্টে গড়ার পিছনে অতীতের জমিদারবাড়ির কর্মীদের এখনকার বংশধরদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার একটা তাগিদ অনুভব করেছিলাম, জানাচ্ছেন শিলাদিত্যবাবু।

চৌধুরীরা আদতে ছিলেন সেনশর্মা। বাংলারই তেহট্ট-ভিত্তিক সেনশর্মা পরিবারের একটি অংশ তৎকালীন গৌড় রাজ্যে পাড়ি দেন। এই বংশের ধোয়ি বা দুহি সেনশর্মা গৌড় রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি ছিলেন। দুহি সেনের পিতামহ শ্রীবৎস সেনশর্মার একাদশ শতকের শেষ বা দ্বাদশ শতকের শুরুতে গৌড় অঞ্চলে পাড়ি দিয়েছেলেন। পরিবারের বংশতালিকা দেখা যায়। সময় প্রবাহের সঙ্গে ইতিহাসের ধারা গবেষণার বিষয় হতে পারে।

 

এই বংশের শ্রীকৃষ্ণ রাম সেনশর্মা মুর্শিদাবাদের নবাবদের দরবারে সাদরে গৃহীত হয়েছিলেন তাঁর নানা গুনাবলীর কারণে। তাঁর আমলে বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদে সেনশর্মাদের জমিদারির পত্তন হয়। শ্রীকৃষ্ণ রাম সেনশর্মার দুই পুত্রের একজন ‘চৌধুরী’, অন্যজন ‘মজুমদার’ খেতাব পান।

এখানে গ্রামের মধ্যে পায়ে হেঁটে বেড়ানো প্রকৃতপক্ষে একটি হেরিটেজ ওয়াকও বটে। বড় কালী, মেজ কালী, ক্ষ্যাপা কালী, আনন্দময়ী কালীর মন্দির, শিব মন্দির, বহুকালের দুর্গাবাড়ি, আবার নিরিবিলি আশ্রম, দিঘি, বহু প্রাচীন বটবৃক্ষ, আম বাগান, সবমিলিয়ে সে প্রকৃতই বাংলার নিজস্ব রূপ। বলে রাখা ভালো, আমের মরসুমে চৌধুরীদের আমের বাগানে গাছ থেকে আম পেড়ে খেতে পারেন যত খুশি।

চার শতকের পুরনো বাড়িতে থাকবেন। আধুনিক সুবিধার খামতি নেই। তবে ওই দরদালান, ঘরের সিলিং, জানলা-দরজার গঠন ও নকশা, বহু পুরনো সব আসবাব, কত গল্পগাছা, এ যেন অন্য এক জগৎ।

হেরিটেজ হোমস্টে, আমদপুরে থাকার জন্য যোগাযোগের নম্বরেঃ (033)–2486 0513.
প্রয়োজনে শিলাদিত্য চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরেঃ 9831031183.

ফটো সৌজন্যঃ হেরিটেজ হোমস্টে, আমদপুর।

1 Comment

  1. Torsa Admin says:

    Thanks to you and welcome-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *