Follow us
Search
Close this search box.

মহেশগঞ্জ এস্টেটের বালাখানা প্রাসাদে

মহেশগঞ্জ এস্টেটের বালাখানা প্রাসাদে

রাজার হালে ছুটি কাটাতে চান? তাহলে মহেশগঞ্জ এস্টেটের বালাখানা প্রাসাদে দু’একটা দিন থাকার কথা ভাবতে পারেন।

কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বর থেকে ১২ কিলোমিটার। সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যপটের মধ্যে প্রথম দর্শনেই বালাখানা ম্যানশন আপনাকে মোহিত করবে। ১৭৮০ সালে প্রাসাদটি তৈরি করিয়েছিলেন এক ইতালীয় ডাক্তার। পরে প্রাসাদটি কিনে নেন হেনরি ন্যাসবিট স্যাভি নামের এক ধনী সাহেব। নীলের ব্যবসা ছিল তাঁর। ১৮৭৫-এ ফের হাতবদল হয় প্রাসাদটির। কিনে নেন আঞ্চলিক জমিদার পরিবার পালচৌধুরীরা।

পেল্লায় সেই প্রাসাদের একটি আংশ এখন অতিথি অপ্যায়ণে ব্যবহৃত হয়। বালাখানা হেরিটেজ হোমস্টে। প্রশস্ত ও উঁচু উঁচু সিলিংয়ের পাঁচ-ছ’টি ঘর নিয়ে সেই ঐতিহ্যপূর্ণ সেই অতিথিশালায় অতীত আর বর্তমানের মেলবন্ধন ঘটেছে। অ্যান্টিক আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো ঘরগুলোতে পরিপূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যের আধুনিক সব উপকরণ রয়েছে। লিভিং রুম, ডাইনিং রুম, বিলিয়ার্ড রুম, আর বড় বড় থামওয়ালা ২০০০ বর্গফুটের বারান্দায় আপনার পদচারণা এক অন্য অনুভূতির জন্ম দেবে। ওই বিলিয়ার্ড টেবিলটির বয়স নয় নয় করে আড়াইশো বছর। বিশাল বারান্দায় প্রাচীন আরামকেদারায় একটি বই আর এক পেয়ালা যথার্থ দার্জিলিং চা নিয়ে বসুন, ছুটি সার্থক হবে।

১৬ একর জায়গা জুড়ে এস্টেট রয়েছে ফল, ফুল, সবজির বাগান, কৃষিজমি। খেতে, বাগানে বেড়াতে পারেন। এস্টেটের মধ্যে যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে বেঞ্চ। সেখানে বসে বিশ্রাম নিন।

 

 

 

এস্টেটের পেছনদিকে দিয়ে বয়ে চলেছে জলঙ্গি নদী। সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ সিনেমার একটি দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল এখানে, জলঙ্গির পাড়ে। এস্টেটের পেছনদিকে একটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ চোখে পড়বে। এখান থেকে মহেশগঞ্জ এস্টেটের জমিদার রণজিৎ পালচৌধুরী তাঁর টাইগার মথ এয়ারক্র্যাফট নিয়ে আকাশে উড়তেন।

বালাখানার রসুইঘরের সুখ্যাতি সুখ্যাতি রয়েছে। ইংলিশ ব্রেকফাস্ট, কন্টিনেন্টাল ও ইন্ডিয়ান ডিনার আর ষোলোআনা বাঙালি ঘরানার মধ্যাহ্নভোজে জিভ, মন দুই-ই মজে।

একদা মহেশগঞ্জ এস্টেট থেকে মায়াপুর ৪ কিলোমিটার , বল্লাল ঢিবি ৪ কিলোমিটার, জগন্নাথ মন্দির ৪ কিলোমিটার, হাতে বোনা টাঙ্গাইল শাড়ির জন্য বিখ্যাত শান্তিপুর, ফুলিয়া ৩০ কিলোমিটার।

কলকাতা থেকে বালাখানার দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটার। নিজেদের গাড়িতে সাড়ে ৩ ঘন্টায় পৌঁছে যাওয়া যায়। ট্রেনে গেলে নামতে হবে কৃষ্ণনগর স্টেশনে। এখন থেকে বালাখানা ১২ কিলোমিটার। জানিয়ে রাখলে এস্টেট থেকে অতিথিদের জন্য গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

থাকার খরচ

দুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দু’জনের জন্য দিনপ্রতি ঘরের ভাড়া ৬,০০০ টাকা। ১লা এপ্রিল থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত বালাখানা বন্ধ থাকে। বছরের অন্য সময়ে দু’জনের জন্য দিনপ্রতি ঘরের ভাড়া ৫,০০০ টাকা। ঘরের ভাড়ার সঙ্গে সকালের চা, প্রাতরাশ ও বৈকালিক চায়ের খরচ ধরা থাকে।

১০ বছরের কম বয়সের সর্বাধিক ২টি বাচ্চার জন্য আলাদা খরচ লাগে না। ১০ বছরের বেশি বয়সের প্রতি সদস্যের জন্য অতিরিক্ত ২০০০ টাকা লাগবে। এসি ব্যবহার করলে দিনপ্রতি অতিরিক্ত ১০০০ টাকা দিতে হয়। সঙ্গে ড্রাইভার থাকলে তাঁর থাকা-খাওয়ার জন্য দিনপ্রতি ব্যয় হবে ১০০০ টাকা।

প্রতিটি আমিষ মিলের খরচ ৭০০ টাকা। প্রতিটি নিরামিষ মিলের খরচ ৫০০ টাকা।

যোগাযোগের নম্বরঃ ৯৮৩১৩২৮৪৮৬, ৯৮৩১২৭০৮০৭।

ফটো সৌজন্যঃ বালাখানা হেরিটেজ হোমস্টে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *