Follow us
Search
Close this search box.

ইয়ুমথাং উপত্যকায় এখন ফুলের উচ্ছ্বাস

ইয়ুমথাং উপত্যকায় এখন ফুলের উচ্ছ্বাস

এপ্রিল ও মে মাসে রডোডেনড্রন ফুলের রঙে সাজে ‘পুবের ফুলের উপত্যকা’ ইয়ুমথাং। উত্তর সিকিমের ইয়ুমথাং ভ্যালির উচ্চতা ১১,৬০০ ফুট। ওটাই ট্রি-লাইন। বড় গাছপালার আড্ডা এখানেই শেষ। তারপরে শুরু হল পাথুরে জমির ঢেউ। পাহাড় আর পাহাড়। ইয়ুমথাং ভ্যালির অন্তুর্গত সিংবা রডোডেনড্রন স্যাংচুয়ারি। সেখানে অন্তত ২৪ প্রজাতির রডোডেনড্রন ফোটে বসন্তে। জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চাক্ষুষ করা যায় ফুলে ছাওয়া ইয়ুমথাং উপত্যকা। চোখে পড়তে পারে প্রাইমরোজ, লিলি, আইরিসের ঝাড়, যদিও, বর্ষার পরে, হেমন্তে এই ফুলগুলো ছেয়ে থাকে উপত্যকা জুড়ে।

ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারিতে প্রবল তুষারপাত হয় ইয়ুমথাং এলাকায়। বরফের চাদরে ঢাকা পড়ে উপত্যকা। মার্চ থেকে জুন ইয়ুমথাংয়ে গ্রীষ্ম। বদলে যায় পাহাড়ে ঘেরা ইয়ুমথাং ভ্যালির চালচিত্র। তখন ফুল ফোটে, ঢেউ খেলানো তৃণভূমিতে ইয়াক চরে বেড়ায়, উপত্যকার মধ্যে দিয়ে কুলকুল করে বয়ে চলে লাচুং নদী। প্রকৃতির এক বিশাল রঙিন ক্যানভাস তখন ইয়ুমথাং।

সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে ইয়ুমথাং ভ্যালি ১৫০ কিলোমিটার। যেতে হয় উত্তর সিকিমের মঙ্গন, চুংথাং, লাচুং হয়ে। যাত্রাপথে দেখবেন সেভেন সিস্টার্স জলপ্রপাত। সিংঘিক ভিউপয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করবেন। চুংথাংয়ে উত্তর সিকিমের আরেক জনপদ লাচেন হয়ে আসা লাচেন চু বা লাচেন নদী ও লাচুং হয়ে নেমে আসা লাচুং চু বা লাচুং নদী মিলিত হয়ে তিস্তা নাম নাম নিয়ে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। লাচেন থেকে সিকিমের হাই-অল্টিটিউড লেক গুরুদোংমার ও লাচুং থেকে ইয়ুমথাং উপত্যকায় যেতে হয়। লাচুং থেকে ইয়ুমথাং ২৪ কিলোমিটার। গ্যাংটক থেকে লাচুং পৌঁছাতে গড়ে ঘন্টাপাঁচেক সময় তো লাগেই।

লাচুং পৌঁছে সেদিন ওখানেই রাত্রিবাস। লাচুং নদী এখানে খুব প্রাণবন্ত। একটা পুল আছে নদীর ওপর। নদীর ওপারে যাওয়া যায়। একটা মনাস্ট্রি আছে লাচুংয়ে। তিব্বতি সংস্কৃতির প্রভাব চোখে পড়বে। পরের দিন সকালে ইয়ুমথাং উপত্যকায় যাত্রা। এপ্রিল-মে মাসে গুরাস তথা রডোডেনড্রন ফুলের রঙে রাঙানো ইয়ুমথাং বিস্ময়কর রূপে সেজে ওঠে।

চাইলে ইয়ুমথাং থেকে ইউমেসামডং ভ্যালি (জিরো-পয়েন্ট নামে বেশি পরিচিত) বেড়িয়ে আসা যায়। ১৫ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই ভ্যালি। ইয়ুমথাং ভ্যালি থেকে দূরত্ব কমবেশি ২৬ কিলোমিটার। এখানে ইয়ুমথাংয়ের সবুজ উধাও। ভিউপয়েন্টটা পাথরের জঙ্গল যেন। লুকোচুরি খেলা যায়। তবে উচ্চতার কারণে সে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না মোটেই। পাথরেরর চাঁইয়ের গায়ে গায়ে নানা রঙের মস। প্রকৃতির তুলিতে আঁকা সে-সব। গাড়ি চলাচলের রাস্তা এখানেই শেষ। তাই জিরো পয়েন্ট। কাছেই তিব্বতের (চিন) সীমান্ত। দিনে দিনে ফিরে আসতে হবে লাচুংয়ে। লাঞ্চের পরে গ্যাংটকের উদ্দেশে রওনা হওয়া যায়। সে রাতটা লাচুংয়ে থেকে আশপাশটা একটু বেড়িয়ে পরের দিন সকালে লাচুং থেকে বেড়িয়ে পড়া যেতে পারে।

সিকিমের কোনও পর্যটন সংস্থার আয়োজনায় ইয়ুমথাং ভ্যালি যাওয়া যায়। গ্যাংটকে প্রচুর এজেন্সি রয়েছে। ভ্রমণকারীর পরিচয়পত্র ও দু’কপি ফটোর দরকার হবে। সিকিম সরকারের পর্যটন বিভাগ অনুমোদিত ট্র্যাভেল এজেন্টদের তালিকা পাবেন এই ওয়েবসাইটেঃ https://sikkimtourism.gov.in/Public/TravellerEssentials/travelagents সিকিম সরকারের পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরঃ 03592-209090, 03592-232218

পড়তে পারেন –
https://torsa.in/a-few-days-in-north-sikkim/

ফটো সৌজন্য (উপর থেকে যথাক্রমে)
কিওমোই
ট্যাক্সি ইন সিকিম অ্যান্ড দার্জিলিং
চারুকেশী রামদুরাই
উইকিমিডিয়া কমন্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *