Follow us
Search
Close this search box.

সারাহানের ভীমকালী মন্দির হিমাচলী ঐতিহ্যের স্বাক্ষরও

সারাহানের ভীমকালী মন্দির হিমাচলী ঐতিহ্যের স্বাক্ষরও

গ্রীষ্মে কিন্নর, চন্দ্রতাল-সহ হিমাচল প্রদেশের স্পিতি সার্কিটে বেড়ানোর কথা। কয়েকটি পর্বে প্রকাশিত হবে সমগ্র ভ্রমণ-কথা। প্রথম পর্ব –

২০২৫-এর মে মাসের মাঝামাঝি এক দুপুরে কলকাতা থেকে ইন্ডিগোর উড়ানে চড়ে বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ চণ্ডীগড়ে। গ্রীষ্মের বিকেল, সে-শহরের তাপমাত্রা তখন ৩৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। চণ্ডীগড়ে আমাদের হোটেল রেড অ্যাপেল। বিমানবন্দর থেকে ১০ কিলোমিটার। রেল স্টেশন থেকে কাছাকাছি। প্রথম দিনের রাতের আস্তানা। কাল থেকে হিমাচল প্রদেশের স্পিতি সার্কিটের পথ ধরে বেড়ানো শুরু হবে। আজ ২৬ মে।

ব্রেকফাস্টের পরে বেরিয়ে পড়া গেল। নারকান্ডা হয়ে পথ। শিমলা জেলার আরেকটি চমৎকার হিল স্টেশন নারকান্ডা। ৮,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত নারকান্ডার ছোট্ট শহরটি। দৃশ্যপটে হিমালয়ের শিবালিক রেঞ্জ। শীতের নারকান্ডা ভারতের প্রাচীণ স্কি ডেস্টিনেশনগুলির একটি। এই মে মাসের দুপুরে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। আজকের মতো আমাদের গন্তব্য রামপুর। পথে গ্রিন ভ্যালি এলাকা পড়েছে। ছবির মতো উপত্যকা। পাইন, দেবদারুর জঙ্গলগুলো কী যে সবুজ। ভিউ পয়েন্ট আছে।

সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ রামপুরে এসে পৌঁছলাম। ২১০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসা হল আজ। রামপুরের উচ্চতা ৩,০৩২ ফুট। তাপমাত্রা বেশি, সন্ধ্যায় প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। বেশ বর্ধিষ্ণু শহর রামপুর। এখানে আপেলের বড় বাজার আছে। হিমাচল প্রদেশের একটি বড় বাণিজ্যকেন্দ্র রামপুর। রাতটা ছিলাম হোটেল মহেশ রিজেন্সিতে।

সকালে ব্রেকফাস্টের পরে শতদ্রু নদীর তীর ধরে মনোরম এক যাত্রা শুরু হল। আজ সারাহান যাব। রামপুর থেকে সারাহান ৬০ কিলোমিটার। সারাহানের গড় উচ্চতা ৭,০০০ ফুট। শিমলা জেলাটা বেশ বড়। এই সারাহানও শিমলা জেলার অন্তর্গত। পথে পদম প্যালেস দেখা হল। বুশহর বংশের রাজা পদম সিং এই প্রাসাদ তৈরি করিয়েছিলেন। ব্রিটিশ ও কিন্নর-স্থাপত্যের মেলবন্ধন ঘটেছে প্রাসাদটির নির্মাণে।

অ্যালপাইন ভিউ নামের একটি হোটেলে গিয়েছেলাম মধ্যাহ্নভোজনের জন্য। হোটেলের পাশেই একটা আপেলের বাগান। কিছু আখরোটের গাছও চোখে পড়ল। আপেল বাগানের গাছে গাছে ফল ধরেছে দেখলাম। আকার এখন ছোট। অগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ এখানকার বাগানে বাগানে জোর তৎপরতা শুরু হবে আপেলের ফলন তোলার জন্য।

সারাহানে পদম রাজার সামার প্যালেস দেখে আমরা গেলাম ভীমকালী মন্দিরে। সারাহানের ভীমকালী মন্দির ভারতের ৫১ শক্তিপীঠের মধ্যে একটি। বুশহর রাজপরিবারের কুলদেবী ভীমকালী। ত্রয়োদশ শতকে মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দুই টাওয়ারের মন্দির। গঠনশৈলীতে হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপত্যরীতির মিশ্রন ঘটেছে। সোজা কথায়, তিব্বতি স্থাপত্য ঘরানার প্রয়োগ ঘটেছে মন্দির নির্মাণে। হিমাচলের সূক্ষাতিসূক্ষ কাঠের কাজ দেখা যায় এই মন্দির কমপ্লেক্সে। একটি মিউজিয়াম রয়েছে মন্দির চত্বরের মধ্যে। বুশহর রাজপরিবারের নানা জিনিসপত্র দেখা যাবে এখানে। পার্বত্য হিমাচলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের একটা পরিচয় পাওয়া যায় ভীমকালীর সমগ্রিক মন্দির চত্বরে। দশেরায় ভীমকালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে বড় উৎসব আয়োজিত হয়।

ক্রমশ –

ফটোঃ লেখক

Comments are closed.