Follow us
Search
Close this search box.

অফবিট ডুয়ার্সঃ খুটিমারীর জঙ্গল

অফবিট ডুয়ার্সঃ খুটিমারীর জঙ্গল

জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের গয়েরকাটার নৈসর্গিক সৌন্দর্য এখানে বেড়াতে আসা ভ্রমণার্থীদের অভিভূত করে। চায়ের বাগিচায় ঘেরা গয়েরকাটা ডুয়ার্সের অন্তুর্ভুক্ত একটি ছোট্ট শহর। এই লেখার আলোচ্য জায়গাটি অবশ্য খুটিমারীর জঙ্গল। গয়েরকাটা থেকে খুটিমারীর জঙ্গলের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার মাত্র। ডুয়ার্সের ভ্রমণ মানচিত্রে এই খুটিমারীর জঙ্গল এখনো পর্যন্ত প্রায় অন্তরালে থাকা একটি রত্ন বিশেষ। ডুয়ার্সে যাঁরা অফবিট ভ্রমণ ঠিকানার খোঁজ করেন, তাঁরা একবার খুটিমারী বেড়িয়ে যেতে পারেন।

জলপাইগুড়ির মোরাঘাট ফরেস্ট রেঞ্জের অন্তর্গত খুটিমারীতে এখনো পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনা কম। হৈ হল্লার বালাই নেই। অতি শান্ত পরিবেশ। অসীম নৈঃশব্দ খুটিমারীর জঙ্গলের বিশেষত্ব। চারিদিকে সবুজ আর সবুজ। একটা প্রশান্তির বোধ কাজ করে এখানে এসে পড়লে। খুটিমারীর জঙ্গল হাতি, লেপার্ড, বাইসনের দলের চলাচলের করিডোর। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ঝিরিঝিরি ধারায় প্রবাহিত হয়ে চলছে নোনাই নদী। কাছেই সোনাখালির জঙ্গল।

বন বিভাগের কাঠের ডিপো রয়েছে খুটিমারীতে। প্রচুর লেমন গ্রাস উৎপাদিত এই অঞ্চলে। এই সুগন্ধী প্রজাতির ঘাস ও তার নির্যাস রান্নায়, সাবান, ফিনাইলের মতো জীবানুনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে লেমন গ্রাসের।

নানা প্রজাতির পাখির দেখা মেলে খুটিমারীর জঙ্গলে। এখানকার গোঁসাইহাট ইকো পার্ক-সংলগ্ন বিলে শীতে প্রচুর পরিযায়ী পাখির সমাবেশ ঘটে।
গোঁসাইহাট ইকো পার্কটিকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের পর্যটন পরিকাঠামোর প্রসার ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিক বাসিন্দারা সেই সম্ভাবনার বাস্তবায়নের আশায় রয়েছেন। প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এই বিলটি পরিবেশ নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের কাছে একটা বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

খুটিমারী থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দর একটি গ্রাম নাথুয়া। মনোরম পরিবেশ। গ্রামটির পাশ দিয়ে বইছে ডায়না নদী। নদী-তীরের নব দিঘা পিকনিক স্পট থেকে চমৎকার সূর্যাস্ত দেখা যায়।

খুটিমারীর জঙ্গলের কাছেই রয়েছে সরকারি রিসর্ট ও বেসরকারি গেস্টহাউস। চাইলে জঙ্গল প্রান্তে রাত্রিবাস করা যায়। খুটিমারী এলাকায় প্রধাণত রাভা জনজাতির মানুষের বসবাস। খুটিমারী এলে তাঁদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে খানিকটা অবহিত হওয়ার সুযোগ মেলে। রাভাদের নৃত্য-গীতের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থাও হতে পারে।

খুটিমারী অঞ্চল-লাগোয়া চা-বাগিচাগুলি এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে আরেকটি আকর্ষণ। জঙ্গল, নদী, চা-বাগিচা, জীবজন্তু, পাখি, সব মিলিয়ে খুটিমারীতে এলে ডুয়ার্সকে আবিষ্কার করা যায় নতুন করে। পাবেন পরিচ্ছন্ন বাতাস আর অফুরন্ত অক্সিজেন। খুটিমারী বেড়িয়ে যে নতুন জীবনীশক্তিতে প্রাণিত হয়ে ঘরে ফিরবেন তা হলফ করে বলতে পারি।

ফটোঃ লেখক

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরঃ 88034 70737

Comments are closed.