বর্ষায় মাইথনের দীর্ঘ বাঁধ, জলাধার ও তার মধ্যেকার ছোট ছোট দ্বীপ, টিলা অন্য রূপে সেজে ওঠে। বর্ষার নতুন জলে জলাধার টইটম্বুর। বিস্তৃত লেক ঘিরে সবুজের সমারোহ। বাঁধ, লেক, টিলা জুড়ে কত ছন্দের বৃষ্টিপাত। শীতে প্রচুর মানুষ মাইথন বেড়াতে যান। বর্ষার মাইথন ফাঁকা ফাঁকা। প্রকৃতি কেমন যেন ঘন হয়ে আসে। সে মাইথনের আরেক রূপকথা। হোটেলের ব্যালকনিতে বসে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসুন। দেখবেন অন্য মাইথনকে। বাঁধের পথ ধরে খানিকটা হেঁটে আসুন। জলবাহী বাতাসে মন-প্রাণ জুড়োবে।
বরাকর নদীর ওপর ভারতের বৃহৎ বাঁধগুলির অন্যতম, ১৫,৭১২ ফুট দীর্ঘ মাইথন ড্যামের এক প্রান্তে পশ্চিমবঙ্গ অন্য প্রান্তে ঝাড়খণ্ড। বাঁধের একদিকে অনেকটা নীচে রয়েছে ডিভিসি-র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। অন্যদিকে ৬৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে লেক। বোটিং করা যায়। বর্ষায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে বোটিং করা যেতে পারে।
আশেপাশে
মাইথন থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে শক্তিপীঠ কল্যাণেশ্বরী মন্দির। মাইথন যাতায়াতের পথে পশ্চিম বর্ধমানের এই প্রাচীন মন্দিরটি দর্শন করে নেওয়া যায়। কথিত আছে, একসময় নরবলি দেওয়া হত এই মন্দিরে। ৫০০ বছরের প্রাচীন কল্যাণেশ্বরী মন্দিরের অবস্থান বরাকর নদীর তীরে। কল্যাণেশ্বরী মন্দিরের কাছাকাছিই ভাণ্ডার পাহাড়ে অমরনাথ শিবের মন্দির। পাথরের সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ের শীর্ষে উঠতে হয়।
মাইথনে থেকেই বেড়িয়ে আসতে পারেন পাঞ্চেত বাঁধ। বর্ষায় পাঞ্চেতকেও আবিষ্কার করা যায় আরেক রূপে। মাইথন থেকে পাঞ্চেত ১৭ কিলোমিটার। ঝাড়খণ্ডে পাঞ্চেত পাহাড়ের নীচে সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে দামোদর নদের ওপর পাঞ্চেত বাঁধ বর্ষায় ও বর্ষায় আরও সবুজ, আরও সুন্দর। তখন খোলা লকগেট দিয়ে সগর্জন জলপ্রবাহ দেখার সুযোগ থাকে।
যাওয়ার পথ
মাইথনের নিকটতম রেল স্টেশন কুমারডুবি। কুমারডুবি থেকে মাইথন ড্যাম ৯ কিলোমিটার। মাইথনে যাওয়ার জন্য কুমারডুবি স্টেশন থেকে অটোরিক্সা পাওয়া যাবে। হাওড়া থেকে কুমারডুবি পৌঁছানোর ভালো দুটি ট্রেন ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস ও কোলফিল্ড এক্সপ্রেস। আরও ট্রেন আছে। হাওড়া থেকে কুমারডুবি ২৩৩ কিলোমিটার। ঘন্টা চারেক সময় লাগে। কলকাতা থেকে আসানসোলগামী বাসেও মাইথন যাওয়া যায়।
থাকার ব্যবস্থা
মজুমদার নিবাস (ডিভিসি গেস্টহাউস) চমৎকার। লেকের মধ্যেই একটি ছোট্ট দ্বীপে গেস্টহাউসের অবস্থান। একটি ছোট পুল পেরিয়ে গেস্টহাউসে পৌঁছাতে হয়। গেস্টহাউসের চারপাশের প্রকৃতির শোভা অসাধারণ। বুকিং করতে হয় এই ঠিকানায়ঃ ডিভিসি টাওয়ার, ভি আই পি রোড, কলকাতা-৫৪। ফোনঃ ৬৫৪০২-৫২৪৬৫। হোটেল শান্তিনিবাস, ফোনঃ ৯৪৭৭৬-৪২৭১৬। মাইথন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, ৯৮৮৩০-৪৭৩৯৫। কল্যাণেশ্বরী মন্দিররে কাছাকাছিও অনেক হোটেল আছে। এখানকার কোনও হোটেলে থেকেও মাইথন বেড়িয়ে আসা যায়।
হেডার ফটোঃ ট্রিপইনফি ডট কম।