
অজয় রায়
ডুয়ার্সের বক্সা টাইগার রিজার্ভের মধ্যে জয়ন্তী গ্রামটির অবস্থান। জঙ্গল, নদীতে ঘেরা পুরনো গ্রাম। নানা জাতি, ভাষাভাষীর মানুষের বসবাস এখানে। মানুষ, বন, বণ্যপ্রাণের এক অবাক করা সহাবস্থান ঘটেছে এখানে। ঘন সবুজ সেই গ্রামের এক পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে জয়ন্তী নদী। বর্ষায় সে-নদীর দুরন্ত রূপটি দেখে বিস্মিত হতে হয়। অন্য সময় নানা ধারায় প্রবাহিত হয় নদী। তখন জয়ন্তী নদীর বেডে পদচারণা করা যায়। সে আরেক অভিজ্ঞতা। চোখ তুলে তাকালে ভুটানের পাহাড়শ্রেণি। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখির কলকাকলি অনবরত। গ্রাম-সংলগ্ন জঙ্গলগুলো লেপার্ড, হাতি, বাইসন, হরিণ, ময়ূর, প্রজাপতির রাজ্যপাট। প্রচুর অক্সিজেন। দুটো দিন এখানে কাটালে শরীর-মন তাজা হয়। উল্লেখ্য, জয়ন্তীকে ‘ডুয়ার্সের রানি’ বলা হয়।

জয়ন্তীর গ্রামে নানা জাতি, নানা ভাষা ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একত্রিত বসবাস। বর্তমান জয়ন্তী মূলত পর্যটন-নির্ভর একটি আরণ্যক গ্রাম।
জয়ন্তীতে থাকার জন্য রয়েছে ৩৬ টি ইকো-টুরিজম ফ্যামিলি হোমস্টে, পি. ডব্লিউ. ডি.-র একটি ইনস্পেকশান বাংলো, পি. এইচ. ই.-র ইন্সপেকশন বাংলো, সরকারি বনবিভাগের বনবাংলো, সি. ই. এস. সি.-র অবকাশ বাংলো। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন বিভাগের কটেজও আছে (এখন বন্ধ রয়েছে)। একটি ধর্মশালাও রয়েছে জয়ন্তীতে।

জয়ন্তী বেড়িয়ে দেখার জন্য রয়েছেঃ জয়ন্তী ২৬ মাইল কোর জঙ্গল জিপসি সাফারি, পুকুরি পাহাড় এবং তাঁসিগাও নজর মিনার, ভুটিয়াবস্তি ও চুনিয়া জংগল সাফারি, ছোট ও বড় মহাকাল গুহা।
জয়ন্তী থেকে ১০ কিমি দুরত্বে রয়েছে ঐতিহাসিক বক্সা দুর্গ ও লেপচাখা গ্রাম। এই জায়গাগুলিকে ডুর্য়াসের ভূস্বর্গ বলা হয়। জয়ন্তী থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে রাজাভাতখাওয়াতেও জিপসিতে জঙ্গল সাফারি করা যায়। চমৎকার একটি মিঊজিয়াম, প্রজাপতি উদ্যান ও শকুন পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে রাজাভাতখাওয়ায়। জয়ন্তী থেকে ২৮ কিমি দুরত্বে সিকিয়াঝোরায় নৌকায় জঙ্গল সাফারি করা যায়। সিকিয়াঝোরায় জলপথ ডুর্য়াসের অ্যামাজন নামে পরিচিত। জয়ন্তীর রূপ, রহস্য দেখা ও অনুভবের জন্য ৪ রাত্রি ৫ দিনের প্রোগ্রাম শ্রেয়।
জয়ন্তীতে থেকেই বেড়িয়ে নেওয়া যায় রায়মাটাং (হোমস্টে আছে), চিলাপাতার জঙ্গল (হোমস্টে ও জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থা আছে), সেন্ট্রাল ডুর্য়াস, রাঙামাটি, হাতিপোতা, ভুটানঘাট, নারাথলি, রায়ডাক, ভুটানের প্রবেশদ্বার ফুন্টশেলিং, কোচবিহারের রাজবাড়ি, মদনমোহন মন্দির ও রসিকবিল। একটি গাড়ি ভাড়া করে খুব আরামদায়ক ভাবেই বেড়ানো যায় এই জায়গাগুলো।

জয়ন্তী আসার জন্য ট্রেনে নিউ আলিপুরদুয়ার বা আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশনে নামতে হবে। একটা প্রাইভেট গাড়ি করে স্টেশন থেকে জয়ন্তীতে চলে আসবেন। নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্টের বাস আলিপুরদুয়ার ডিপো থেকে সকাল ৭টা এবং দুপুর ২টোয় পাওয়া যাবে।
আলিপুরদুয়ার চৌপথি থেকে জয়ন্তী ৩২ কিলোমিটার।
লেখকের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরেঃ ৮৮০৩৪৭০৭৩৭ / ৭০৪৭১০০৩৮৮)।
ফটোঃ লেখক




