তপন মুখোপাধ্যায়

কাশ্মীর উপত্যকায় বসন্তের বর্ণবাহার চাক্ষুষ করতে দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ আসেন শ্রীনগরে। প্রধাণ আকর্ষণ জবরওয়ান পর্বতশ্রণির পাদদেশে ডাললেকের পারের প্রায় ৩০ হেক্টর অঞ্চলব্যাপী এশিয়ার বৃহত্তম টিউলিপের বাগিচা। টিউলিপের সঙ্গে সঙ্গত করে ডাফোডিল, হায়াসিন্থ, আইরিস, নার্সিসাস ফুলেরা। মাঝ-মার্চ থেকে মাঝ-এপ্রিল পর্যন্ত রঙের রংবাজি চলে শ্রীনগরের টিউলিপ গার্ডেনে।

প্রায় একই সময়ে প্রকৃতির আরেকটি রূপ দেখা যায় হরি পর্বতের পাদদেশে বাদামওয়ারির উদ্যানে (বাদামওয়ারি পার্ক)। বসন্তে ঝাঁকে ঝাঁকে অ্যামন্ডের ফুল ফোটে বাদামওয়ারির বাগিচায়। সাদা আর গোলাপীর মিশেলে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল বাদামওয়ারির দৃশ্যপটটিকেই বদলে দেয়। মার্চের শেষার্ধ থেকে এপ্রিলের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বাদামওয়ারি পার্কে অ্যামন্ড ফুলের উৎসব প্রত্যক্ষ করা যায়। শ্রীনগরের বাস টার্মিনাস এলাকা থেকে বাদামওয়ারি পার্কের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার মাত্র।

বয়স কত বাদামওয়ারির এই উদ্যানটির? নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, চতুর্দশ শতকে কাশ্মীরে সুলতান জৈন-উল-আবেদনের রাজত্বকালের আগে উদ্যানটির অস্তিত্ব ছিল। দীর্ঘকাল পর্যটকদের চোখের আড়ালে ছিল বাদামওয়ারি। আঞ্চলিকরা সেই জানতেন তো বটেই। তার ছাপ পড়েছে আঞ্চলক সংস্কৃতিতে। সরকারিভাবে উদ্যান বেড়ানোর জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে ২০০৮ সালে। বসন্তে জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটন বিভাগ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। নতুন করে জাগছে বাদামওয়ারির অ্যামন্ড উদ্যান।

ফটোঃ লেখক –
শ্রীনগরনিবাসী (জম্মু-কাশ্মীর )লেখকের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরঃ 62903 63041.




