Follow us
Search
Close this search box.

দাৰ্জিলিংয়ে খাওয়াদাওয়া

দাৰ্জিলিংয়ে খাওয়াদাওয়া

কুয়াশা জড়ানো পাহাড়, গভীর সব খাদ; দিনভর উচ্ছল দার্জিলিং মল। সাতসকালের টাইগার হিল,বাতাসিয়া লুপে টয় ট্রেনের কু-ঝিকঝিক, সবুজে সবুজ চা-বাগান, পায়ে পায়ে চিড়িয়াখানা, কাঞ্চনজঙ্ঘার লুকোচুরি খেলা,স্কুল ফেরত কচিকাঁচাদের হেসে গড়িয়ে পড়া, পাহাড়ে পাহাড়ে রাতের আলোকমালা – এইসব টুকরো টুকরো ছবি জুড়ে দিলেই চিরনতুন দাৰ্জিলিং। যতই ঘিঞ্জি হয়ে উঠুক না কেনো, দাৰ্জিলিং পুরোনো হবার নয়, অন্তত বাঙালির কাছে।

 

এক সময় ব্রিটিশদের কাছে দার্জিলিংয়ের পাহাড় ছিল প্রিয় স্বাস্থ্যালয়। সেনাশিবিরও গড়ে তুলেছিল তারা এখানে। পরবর্তীকালে বহু তিব্বতী শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে এখানে। ফলে ২০০ বছর ধরে ব্রিটিশ,নেপালী ও তিব্বতী ঘরানার খাবারদাবারের ফিউশন ঘটে গেছে এ শহরে। দাৰ্জিলিংয়ের খাদ্য পর্যটনও কম আকর্ষণীয় নয়।

এখানে দাৰ্জিলিংয়ের কিছু নামী রেস্তোরাঁ এবং সেখানকার খাবারদাবারের কথা জানানো হল-

কেভেন্টার্স : দাৰ্জিলিংয়ের খাদ্য-মানচিত্রের এক বিশেষ ল্যান্ডমার্ক এই কেভেন্টার্স রেস্তোরাঁটি। গোয়েন্দা ফেলুদা, সত্যজিৎ রায়েরও পছন্দের রেস্তোরাঁ ছিল এটি। ১৯১১ সালে রেস্তোরাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এডওয়ার্ড কেভেন্টার্স। মূলত ইংলিশ খাবারের জন্যই সুখ্যাত কেভেন্টার্স। মল চত্বরে যাওয়ার ব্যস্ত রাস্তার ওপরেই, নেহরু রোডে কেভেন্টার্সের অবস্থান। দোতলা বাড়ি। নীচের অংশ থেকে খ্যাদ্যসামগ্রী কিনে নিয়ে যাওয়া যায়। দোতলায় খানিকটা অংশ ঢাকা। বাকিটা খোলা ছাদ, টেবিল-চেয়ার দিয়ে সাজানো।

 

 

পরিপূর্ণ ইংলিশ ব্রেকফাস্টের জন্য প্রসিদ্ধ কেভেন্টার্স। এই রেস্তোরাঁয় ব্রেকফাস্টের জন্য পাবেন চিজ, চিকেন,পর্ক,সালামি স্যান্ডউইচ, মিট লোফ স্যান্ডউইচ, হ্যাম ও বেকন বার্গার,মিট লোফ এন্ড এগ,সসেজ,মিট বল,ফ্রাঙ্কফুর্টার ফ্রায়েড,বেকন এন্ড এগ, হ্যাম সালামি অ্যান্ড এগ ফ্রায়েড,পর্ক সসেজ,বেকড বিনস,হট চকোলেট,চকোলেট শেক,আইসক্রিম,ফ্রুট জুস,দাৰ্জিলিং চা,কফি ইত্যাদি। কেভেন্টার্সে পরিপূর্ণ প্রাতঃরাশ সারলে অনায়াসে মধ্যাহ্ন ভোজন বাদ দিয়ে দেওয়া যায়।

 

 

গ্লেনারিজ : দাৰ্জিলিংয়ের আরেকটি ফুড ল্যান্ডমার্ক গ্লেনারিজ। মলে যাওয়ার রাস্তার ওপরেই গ্লেনারিজের সাদা বাড়িটি। কেক, পেস্ট্রি, ব্রাউনি, মাফল,পাই, টার্ট এবং দার্জিলিং চায়ের জন্য যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এই পুরোনো কাফে কাম রেস্তোরাঁটির। বিকেলের চা পান সারা যেতে পারে এখানে। ক্যাফেটেরিয়ায় রাখা লাল রঙের টেলিফোন বুথটি গ্লেনারিজের ঐতিহ্যের স্মারক। দোতলায় রেস্তোরাঁ। পাওয়া যাবে চাইনিজ, ইন্ডিয়ান ও কন্টিনেন্টাল খাদ্যসম্ভার।

 

কুঙ্গা: আপার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের কাছে গান্ধি রোডের এই ছোট রেস্তোরাঁটিতে পাবেন তিব্বতী ঘরানার খাবারদাবার। তিব্বতী স্ক্রোল ও মোটিফ দিয়ে সাজানো রেস্তোরাঁটি চালান আঞ্চলিক এক তিব্বতী পরিবার। দাৰ্জিলিং থাকাকালীন অভিনেতা রণবীর কাপুরের প্রিয় রেস্তোরাঁ ছিল এটি। এখানকার থেনথুক,গিয়াথুক ও ডাকথুক নুডলস,স্টিমড মোমো, স্প্রিং রোল, মিট পাই ও স্যুপের সুখ্যাতি রয়েছে। কুঙ্গার ওয়ানটন স্যুপটা চেখে দেখতেই হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ডেকেভাস: গান্ধি রোডে ডেকেলিং হোটেলের নীচে এই ছোট রেস্তোরাঁটি। একটু সময় হাতে নিয়ে যেতে হবে। অর্ডার দেওয়ার পরে খাবার তৈরি করে দেওয়া হয়। প্রাতরাশ,মধ্যাহ্নভোজন,নৈশাহার, সবই চলতে পারে এখানে। তালুমিন স্যুপ বা মিক্সড স্পেশাল স্যুপ চেখে দেখতে পারেন। ফ্রায়েড রাইস ও চিলিচিকেনের কম্বিনেশনটা বেশ ভালো। থুকপাটাও ভালো করে এঁরা। মাশরুম ও বাম্বু শুটের পদও ভালো লাগবে।

চপস্টিক্স : মোমো,থুকপা,চাউমিনের আরেকটি ঘাঁটি চপস্টিক্স রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার। একটু সাহসী হওয়া গেলে ইয়াকের দুধ থেকে তৈরি মাখন দিয়ে নোনতা স্বাদের চায়ের স্বাদ নেওয়া যায়। দার্জিলিঙের ওল্ড সুপার মার্কেটের উল্টোদিকে মোটরস্ট্যান্ডে এই রেস্তোরাঁটির অবস্থান।

রিভলভার : হ্যাঁ, এটাই রেস্তোরাঁর নাম। তবে এক্ষেত্রে নামটি মারণাস্ত্রবোধক নয়। স্মরণ করিয়ে দেয় বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড বিটলসের সপ্তম অ্যালবামের কথা। বিটলসের ‘রিভলভার’ নামের অ্যালবামটি রিলিজ করেছিল ১৯৬৬ সালে। দুই সঙ্গীতপ্রিয় মানুষ অসলেনা ও বিকাশ রিভলভার রেস্তোরাঁর প্রতিষ্ঠাতা। বিটলসের এলবামের নামানুসারে তারা রেস্তোরাঁর নামকরণ করেছেন। দাৰ্জিলিংয়ে বসে নাগা খ্যাদ্যের আস্বাদ নিতে চাইলে আপনাকে রিভলভারে আসতেই হবে। ইউনিয়ন চ্যাপেলের পিছনে গান্ধি রোডে এই রেস্তোরাঁ। ইংলিশ ও কন্টিনেন্টাল খ্যাদ্যসম্ভারও পাবেন এখানে।

গেট্টিস কাফে : মল থেকে ১০ মিনিটের হাঁটাপথ। জাকির হুসেন রোডে অবস্থিত কাফেটির অভ্যন্তরের আবহে পশ্চিমী ছোঁয়া রয়েছে। পাশ্চাত্য সংগীত এই কাফের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনোও কোনোও সন্ধ্যায়, বিশেষ করে পর্যটন-ব্যস্ত মরসুমে সংগীতের আসর বসে এখানে। একাংশে রয়েছে বইয়ের সংগ্রহ। ট্রেকিং,হাইকিং সম্পর্কিত বইপত্র নেড়েচেড়ে দেখা যায়। অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকে এই কাফে। এখানে একটি বারও আছে। বিভিন্ন রকমের চা ও কফি পরিবেশন করে থাকে গেট্টিস কাফে। এখানকার পাস্তা, লাসাগমা প্রভৃতি ইতালিয়ান কুইজিনের যথেষ্ট সুখ্যাতি আছে। আরবী খানাও পরিবেশন করেন এঁরা। দুর্দান্ত ফ্রেঞ্চ ফ্রাই পাওয়া যাবে এখানে।

 

সাংগ্রি-লা হোটেল : মল থেকে কয়েক পা, নেহরু রোডের ওপরেই সাংগ্রি-লা হোটেল। ভারতীয়,চাইনিজ ও তিব্বতীয় নানা পদ পাওয়া যাবে এখানে। বার-ও আছে এই রেস্তোরাঁয়। সাংগ্রি-লার খাদ্য তালিকা বেশ লম্বা। সুখের কথা, মাছের কারি পাবেন এখানে। নিরামিষভোজীদের জন্যও বাহারি খাবারদাবারের ব্যবস্থা আছে সাংগ্রি-লা’য়। হংকং শৈলীতে রান্না ব্রকোলি, বেবিকর্ন চেখে দেখতে পারেন। পাবেন মোগলাই ডাল, ডাল মাখানি,ডাল ফ্রাই, ডাল কাশ্মীরি। মুরগি ও ভেড়ার মাংসের নানা পদ তো আছেই।

 

ফ্রাঙ্ক রস কাফে: মলে যাওয়ার পথে নেহরু রোডে ফ্র্যাঙ্ক রস ক্যাফে। জিভে জল আনা সব নিরামিষ পদ পরিবেশিত হয় এখানে। ভারতীয়,ইটালিয়ান,মেক্সিকান, চাইনিজ খাদ্যসম্ভার পাবেন এখানকার প্রাতরাশ, দুপুরের আহার ও নৈশভোজে। দোসা,ছোলা বাটোরা, স্যান্ডউইচ,পরিজ,পিৎজা,বিনস অন টোস্ট, ট্যাকো, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, কর্নফ্লেক্স, চিজ ও চিলি টোস্ট, আলু পরোটা , নিরামিষ বার্গার , স্প্যাগোটি, চাউমিন প্রভৃতির মতো রকমারি খাবার পাবেন এই কাফেতে।

 

নাথমুল্লাস টি কোজি: দাৰ্জিলিং বেড়াতে যাবেন আর একটু ভালো চা চেখে দেখবেন না, তাই হয় নাকি? হ্যাঁ,দাৰ্জিলিংয়ের বিভিন্ন রেস্তোরায়ঁ চা পরিবেশিত হয় ঠিকই। কিন্তু একই সঙ্গে নিজের পছন্দসই চা পান এবং বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বা প্রিয়জনদের জন্য চা সংগ্রহ করতে হলে আপনাকে একবার নাথমুল্লাস টি কোজিতে ঢুঁ মারতেই হয়। নাথমুল্লাসের প্রতিষ্ঠা ১৯৩১ সালে। সংস্থার চায়ের বাণিজ্য এখন পৃথিবীজোড়া। একদিন হাঁটতে হাঁটতে চলে যান লাডেন লা রোডের রিঙ্ক মলে। এখানেই নাথমুল্লাস টি কোজি। টি কোজিতে বসে খাওয়া ও কেনার জন্য পাবেন দাৰ্জিলিং ব্ল্যাক টি, সিকিমের হোয়াইট টি, হিমালয়ান গ্রিন টি, অসমের উলং টি , নীলগিরির চাই টি, অর্গানিক টি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *