Follow us
Search
Close this search box.

সারাহান থেকে ছিটকুল, রেকং পিও হয়ে কল্পায়

সারাহান থেকে ছিটকুল, রেকং পিও হয়ে কল্পায়

সুব্রত ঘোষ

গ্রীষ্মে কিন্নর, চন্দ্রতাল-সহ হিমাচল প্রদেশের স্পিতি সার্কিটে বেড়ানোর কথা। দ্বিতীয় পর্ব –

গতকাল রাত্রিবাস হয়েছে সারাহানে। সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়লাম ছিটকুলের উদ্দেশে। আজ ২৯ মে, ২০২৫। সারাহান থেকে সাংলা হয়ে ছিটকুল ১১৯ কিলোমিটার পথ। সারাহান থেকে সাংলা ৮৫ কিলোমিটার। হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার সাংলা টাউনের উচ্চতা ৮,৭৯৩ ফুট। পথে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চোখে পড়ল। এগুলো জিন্দাল পাওয়ারের মালিকানাধীন প্রজেক্ট। পাহাড় কেটে তৈরি রাস্তা খুব কিছু চওড়া নয়। রাস্তা ধসপ্রবণও বটে। পথে শতদ্রু ও বসপা নদীর সঙ্গমস্থলটি দেখা হল।

বিকেল পাঁচটা নাগাদ ছিটকুলে পৌঁছোলাম। রাত্রিবাসের ব্যবস্থা হল বসপা রিভার ক্যাম্প রিসর্টে। পাশ দিয়ে প্রবল বেগে বহে চলেছে বসপা নদী। মে মাসের এই শেষ নাগাদ বিকেলবেলায় ছিটকুলের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। রাতে তাপমাত্রা নেমে গেল মাইনাস ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে। ছিটকুল কিন্নর জেলার অন্তর্গত একটি গ্রাম। শীতে বরফে ছয়লাপ হয়ে যায় ছিটকুল। অনেক আঞ্চলিক বাসিন্দাও শীতে নীচে নেমে আসেন। ভারত-চিন লাগোয়া ভারতের শেষ গ্রাম ছিটকুল।

পরের দিন সকালে ছিটকুক বেড়াতে বেরলাম। বরফাচ্ছাদিত কিন্নর-কৈলাশ রেঞ্জ আর সেইসঙ্গে বসপা নদীর প্রবাহ একসঙ্গে চাক্ষুষ করা যায় ছিটকুল থেকে। সে এক অনির্বচনীয় দৃশ্য। একটি কালীমন্দির ও একটি মনাস্ট্রি আছে ছিটকুলে। ছিটকুল থেকে বোরাসু পাস ট্রেক করা যায়।

আঞ্চলিক মানুষের ভাষায়, পোশাকে, আঞ্চলিক খাদ্যাভাসে কিন্নরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায় এখানে। হিন্দির সঙ্গে ছিটকুলি রকছাম, গাড়োয়ালি ভাষা ব্যবহৃত হয় ছিটকুলে। এখানকার আঞ্চলিক ভাষায় তিব্বতি ভাষার প্রভাবও লক্ষ্য করা যাবে।

ছিটকুল থেকে কল্পা ৭৭ কিলোমিটার। ছিটকুলে লাঞ্চ সেরে রওনা দিলাম কল্পার পথে। কল্পা থেকে ৬ কিলোমিটার আগে রেকং পিও। কিন্নর জেলার সদর শহর। ৭,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত রেকং পিও স্বপ্নসম দৃশ্যপট-সহ বেশ ঝলমলে শহর। খানিক সময় বেড়িয়ে দেখলাম শহরটি। সবকিছুই পাওয়া যায় এখানে। পর্বতবেষ্টিত শহরটি চমৎকার লেগেছিল।

কিন্নর জেলার আরেকটি খ্যাতনামা অঞ্চল কল্পা। উচ্চতা ৯,৭১১ ফুট। কল্পা থেকে তুষারশুভ্র কৈলাশ রেঞ্জের দৃশ্যপট সহজে ভোলবার নয়। বিকেলে কিন্নর-কৈলাশ শৃঙ্গে (১৯,৮৪৯ ফুট) সূর্যাস্তের লাল আভা ছড়িয়ে পড়ল। হতবাক হয়ে সে দৃশ্য দেখলাম। সন্ধ্যায় পৌঁছোলাম কল্পার হোটেল রাকপা রিজেন্সিতে। দুটো রাত্রি থাকব এখানে।

ক্রমশঃ

ফটোঃ লেখক

প্রথম পর্বের লেখাটি পড়তে পারেন এখানেঃ https://torsa.in/spiti-circuit-travel/

Comments are closed.