Follow us
Search
Close this search box.

গঙ্গাসাগর মেলা-২০২৬

গঙ্গাসাগর মেলা-২০২৬

২০২৬-এ মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান ১৪ জানুয়ারি বেলা ১টা ১৯ মিনিট থেকে ১৫ জানুয়ারি ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত। কার্যত সাগর দ্বীপের মেলা শুরু হয়ে যায় আরও ৭ দিন আগে থেকে। গঙ্গাসগর মেলা। মেলা ও স্নান উপলক্ষ্যে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসমাগম ঘটে থাকে সাগর দ্বীপে। এর চেয়ে বেশি মানুষের সমাবেশ ঘটে থাকে একমাত্র কুম্ভমেলায়। সেই হিমালয় থেকে নেমে আসা গঙ্গা এখানে মিলছে বঙ্গোপসাগরে। সাগর দ্বীপের প্রাকৃতিক মাহাত্ম্যও কম কিছু নয়। পুণ্যস্নানের পরে আরও দু’দিন থেকে যায় মেলার রেশ।

সমুদ্র ও গঙ্গার সঙ্গম-সংলগ্ন সাগর দ্বীপ পুন্যভূমি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যিশু খ্রিস্টের জন্মের কয়েকশো বছর আগে। রামায়ণ ও মহাভারতে গঙ্গাসাগরের উল্লেখ সেই প্রাচীণতার সাক্ষ্য দেয়। মন্দির তৈরি হয়েছে বহু কাল আগে। ১৪৩৭ সালে কপিল মুনির বর্তমান মূর্তিটি স্থাপন করেছিলেন রামানন্দী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী রামানন্দ। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে ইক্ষাকু বংশের রাজা ভাগীরথের উপাখ্যান যুক্ত হয়ে আছে গঙ্গাসাগরের সঙ্গে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, গঙ্গাসাগরের সঙ্গমে মকর সংক্রান্তির স্নান মোক্ষ তথা জীবন-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি দেয়। সংক্রান্তি মানে সূর্যের এক রাশি থেকে আরেক রাশিতে প্রবেশ। মকর সংক্রান্তি হল সূর্যের মকর রাশিতে (শনির ঘরে) প্রবেশ। মকর সংক্রান্তির মহালগ্নে বিশালতার স্রোতে অবগাহন করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ, হৃদয়ে থাকে শুভেচ্ছা।

মকর সংক্রান্তির সময়ে গঙ্গাসাগরে বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন, থাকা, কপিল মুনির মন্দিরে পুজো আয়োজন, মেলার ব্যবস্থা, পরিবহণ, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, পানীয় জলের জোগান, টয়লেটের ব্যবস্থা, বিদ্যুতের নেটওয়ার্ক সচল রাখা, স্থলে ও জলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা, সব মিলিয়ে সে এক রাজসূয় যজ্ঞই বটে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী। গঙ্গা ও সাগরের মিলনক্ষেত্রর মেলা দেখতে আসেন বিদেশী ভ্রমণার্থীও। কত আলোকচিত্রী অপেক্ষা করে থাকেন গঙ্গাসাগরের মেলার জন্য। নতুন বছরের মিলন মেলা। হারানো-প্রাপ্তির ঘোষণা হয় মাইকে।

পথ
কলকাতার বাবুঘাট বা ধর্মতলার টার্মিনাস থেকে বাসে কাকদ্বীপের হারউড পয়েন্ট। শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার ট্রেনেও কাকদ্বীপে পৌঁছানো যেতে পারে। সড়ক পথ ডায়মন্ড হারবার, কুলপি, নিশ্চিন্তপুর ধরে হারউড পয়েন্ট কমবেশি ৮৫ কিলোমিটার। গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টার যাত্রা। তারপর মুড়িগঙ্গা নদী পেরিয়ে ওপারে কচুবেড়িয়া। সেখান থেকে গঙ্গাসাগর যাওয়ার বাস, অন্য গাড়ির সার্ভিস পাওয়া যায়। কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর ৪৩ কিলোমিটার। ধর্মতলা থেকে বাসে অথবা শিয়ালদা থেকে ট্রেনে নামখানা পৌঁছে সেখান থেকেও কাকদ্বীপে আসা যায়। নামখানা থেকে কাকদ্বীপ ১৬ কিলোমিটার। নামখানা ফেরিঘাট রয়েছে। ওখান থেকে জলযানে নদীর ওপারে মায়াগোয়ালিনীর ঘাট কিংবা বেনুবন ফেরিঘাট পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে মেলা চত্বরে পৌঁছোনো যায়।

থাকার ব্যবস্থা

তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য সাগর দ্বীপের মেলা পয়েন্ট, চেমাগুড়ি, বেনুবন, কচুবেড়িয়ার আশ্রম মোড় এবং কাকদ্বীপের লট নং-৮, নামখানায় ছাউনি তৈরি হয়। প্রচুর ছাউনি। আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যাও প্রচুর।

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের গঙ্গাসাগর টুরিজম প্রপার্টি রয়েছে। বুকিংয়ের লিঙ্ক https://wbtdcl.wbtourismgov.in/
ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আগাম বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগের নম্বরঃ ০৩২১০-২৪০২০৫/০৩৩-২৪৪০-৫১৭৮
গঙ্গাসাগর ইয়ুথ হস্টেল, বুকিং করা যায় এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেঃ https://youthhostelbooking.wb.gov.in থাকার ব্যবস্থার জন্য দেখতে পারেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগের এই ওয়েবসাইটটিঃ https://prdtourism.wb.gov.in/

তথ্যের জন্য দেখতে পারেন এই ওয়েবসাইটটিঃ https://www.gangasagar.in যোগাযোগের নম্বরঃ 1800 532 5328.

হেডার ফটো সৌজন্যঃ www.gangasagar.in

Comments are closed.