Follow us
Search
Close this search box.

আমদপুরের ৪০০ বছরের প্রাচীন চৌধুরি বাড়ি এখন হেরিটেজ হোমস্টে

আমদপুরের ৪০০ বছরের প্রাচীন চৌধুরি বাড়ি এখন হেরিটেজ হোমস্টে

ধানের খেত, পুকুর, আমের বাগান, প্রাচীন বটগাছ পেরিয়ে ৪০০ বছরের পুরনো বাড়িটিতে পৌঁছোতে হয়। বর্ধমানের মেমারি স্টেশন থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার আমদপুর গ্রাম। এই গ্রামেই সপ্তদশ শতকে তৈরি চৌধুরিদের প্রাসাদোপম বাড়িটি। গোটা এলাকাটাই যেন একটা হেরিটেজ জোন। বাংলার গ্রামীণ পরিবেশে নানা ইতিহাস-বিজড়িত সপ্তাহান্তে বা অন্য কোনও ছোট্ট ছুটিতে সেই প্রাসাদে কাটিয়ে আসতে পারলে বেড়ানোটা একটা অন্য রকমের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। চৌধুরিিড বাড়ি এখন একটি হেরিটেজ হোমস্টে। সড়কপথে কলকাতা থেকে আমদপুর ১০০ কিলোমিটার।

সেনশর্মাদের আদি নিবাস ছিল তেহট্টে। একাংশ চলে আসেন গৌড়বঙ্গে। গৌড়বঙ্গে চলে আসা সেনশর্মা বংশের শ্রীকৃষ্ণরাম সেনশর্মা নানা গুণের কারণে মুর্শিদাবাদের নবাবদের কাছ থেকে সম্মান আদায় করে নিয়েছিলেন। মুর্শিদাবাদ ও বর্ধমানে জমিদারির পত্তন করেছিলেন তিনি।শ্রীকৃষ্ণরাম সেনশর্মার দুই পুত্রকে ‘চৌধুরি’ ও ‘মজুমদার’ খেতাব দেওয়া হয়েছিল নবাবদের পক্ষ থেকে।

বংশের সেই রমরমার সময়ে চৌধুরিরা বর্তমান পূর্ব বর্ধমানের আমদপুরে বড় এলাকা নিয়ে এই প্রাসাদটি গড়েছিলেন। সেই প্রাসাদ ‘চৌধুরি বাড়ি’ নামেই পুরনো সময় থেকে আঞ্চলিকদের কাছে পরিচিত।

সেই চৌধুরি পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য শিলাদিত্য চৌধুরি চার শতকের চৌধুরি বাড়িকে নতুন করে প্রাদপ্রদীপের আলোয় এনেছেন। অতিথিদের জন্য খুলে দিয়েছেন চৌধুরি বাড়ির দরজা। তিনি জানান, চৌধুরি বাড়ির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাওয়াদাওয়ায় চৌধুরি বাড়ির রন্ধনশৈলীর পরিচয় ইত্যাদি মানুষের কাছে তুলে ধরা এই হেরিটেজ হোমস্টে চালু করার উদ্দেশ্য।

সেইসঙ্গে আরেকটা কাজ করছেন শিলাদিত্যবাবু, অতীতের চৌধুরি বাড়ির কর্মীদের বর্তমান বংশধরদের খুঁজে খুঁজে বের করেছেন তিনি। তাঁদের নিয়োগ করেছেন এই হেরিটেজ হোমস্টের নানা কাজে। তাঁরা চৌধুরি বাড়ির ঐতিহ্য সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। আধুনিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে আমদপুরের হেরিটেজ হোমস্টেতে। সঙ্গে পাওয়া যাবে প্রাচীণ ঐতিহ্যের নানা পরিচয়। খাওয়ার টেবিলেও পাওয়া যাবে সুদীর্ঘলালিত সেই ঐতিহ্যের আস্বাদ।

আমদপুর হেরিটেজ হোমস্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের নম্বরঃ (033)–2486 0513/ 9831031183.

Comments are closed.