অজয় রায়
আজ মঙ্গলবার। বক্সা পাহাড়ের পাদদেশে সুনতলাবাড়ি বা সান্তালাবাড়িতে এ দিন হাট বার। আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা পাহাড়ের গ্রামগুলি থেকে মানুষের ঢল নামে সান্তালাবাড়ির হাটে। দুর্গম গ্রামগুলো থেকেও লোক আসে। এখানে সাধারণত বিক্রেতাও ক্রেতা, ক্রেতাও বিক্রেতা। নৈসর্গিক সৌন্দর্য, অনাবিল সবুজ প্রকৃতি, পাখি, প্রজাপতি, অর্কিড গুচ্ছ; সব মিলিয়ে সান্তালাবাড়িকে বাদ রেখে ডুয়ার্সের বক্সা অঞ্চলটির সঙ্গে পরিচয় সম্পূর্ণ হওয়ার নয়। পাহাড়ের উপরে বক্সা দুর্গ বা লেপচাখা ট্রেক করার জন্য সান্তালাবাড়ি বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মঙ্গলবার সান্তালাবাড়ি বা তার আশেপাশে কোথাও থাকলে ডুয়ার্সের এই হাটটিতে একবার ঢুঁ মারা যেতেই পারে।

মঙ্গলবার দিনটার অপেক্ষায় থাকে আঞ্চলিক মানুষজন। পাহাড়ের গ্রামগুলির বাসিন্দারা নিজের নিজের বাগানের স্কোয়াশ, আদা, কলা, গোলমরিচ, কচু, এলাচ এবং আরও বিভিন্ন জিনিসপত্র পিঠে ডোকো করে নিয়ে আসে সান্তলাবাড়ির হাটে। সেখানে শহর থেকে আসা পাইকারদের কাছে সেইসব সামগ্রী বিক্রি করে। অর্জিত টাকায় ওই হাট থেকেই কিনে নেয় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
সকাল ৭ টার মধ্যে হাট বসে যায়। হাট চলে বেলা ১২-১ টা পর্যন্ত। এই সময়টায় সান্তলাবাড়ির হাট জমজমাট। তারপরে ফের পাকদণ্ডী-পথ ধরে দূর দূর গ্রামে ফেরার পালা। শেষ বিকেলের আলো থাকতে থাকতেই গ্রামে ফিরতে হয়। অনেক সময়েই সে পথ দুর্গম।
দীর্ঘকাল ধরে হাট চলছে। ভ্রমণার্থীরা হাটে এলে পাহাড়ি গ্রামের জীবন সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন। নিকটবর্তী রেল স্টেশন আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশন। এখান থেকে সান্তালাবাড়ি আসার গাড়ি পাওয়া যায়।
ফটোঃ লেখক।
লেখকের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরঃ 88034 70737.