Follow us
English

সিকিমের সাত

সিকিমের সাত

ইয়াকতেন

পূর্ব সিকিমের ছোট্ট একটা গ্রাম। ছবির মতো। ৫৩০০ ফুট উচ্চতায় ইয়াকতেনে যত্রতত্র প্রজাপতি ওড়ে। সবুজ অ্যালপাইন জঙ্গল দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। পাহাড়ের ধাপে চাষবাস। গ্রামে, জঙ্গলে নানা প্রজাতির পাখির দেখা পাওয়া যাবে। আকাশের গায়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ইতিউতি চোখে পড়বে অর্কিড। সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে ইয়াকতেন ৩৫ কিলোমিটার।

ইয়াকতেন থেকে ঝান্ডি দাড়া ৭ কিলোমিটার। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ট্রেক করে চলে যান। ঝান্ডি দাড়া তুষারাবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার চমৎকার একটি ভিউপয়েন্ট। এখানে একদিকে যদি থাকে ভুটিয়া দুর্গের ধ্বংসাবশেষ তবে দূরে অন্যদিকে থাকবে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। আর দিনে দিনে বেড়িয়ে আসা যায় গ্যাংটক শহর থেকে। সিকিমের পর্যটন মানচিত্রে ইয়াকতেন একটি নতুন সংযোজন। দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ভ্রমণ ঠিকানাটি।

যাওয়ার পথ

এন জে পি অথবা শিলিগুড়ি থেকে পুরো গাড়ি ভাড়া করে বা শেয়ার গাড়িতে গ্যাংটক পৌঁছে সেখান থেকে আলাদা গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন ইয়াকতেন। এন জে পি থেকে ইয়াকতেন ১৪০ কিলোমিটার।

থাকার ব্যবস্থা

ইয়াকতেন প্যারাডাইস হোমস্টে, ফোন ৭৯০৮১ ১২৬১০। অর্কিড হোমস্টে, ইয়াকতেন, ফোন ৯০০৭৬ ১২০১৫

জুম

জুমে যাওয়া মানে নির্ভেজাল পাহাড়ী প্রকৃতির অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া। রঙ্গীত নদীর তীরে জুম থেকে দেখবেন পাহাড়ের পর পাহাড়ে সবুজের ঢেউ। জৈব চাষের জন্য নাম করেছে জুম। খাওয়ার টেবিলে পরিবেশিত হবে বিষমুক্ত খাদ্য। কমলালেবুর কিছু বাগান আছে জুমে। ট্রেক করে যেতে পারেন জুম ভিউপয়েন্টে। সেই ভিউপয়েন্ট থেকে চারপাশের পাহাড় আর উপত্যকার দৃশ্যপট যেন এক কল্পনার জগৎ। চলে যেতে পারেন রঙ্গীতের তীরে। রঙ্গীত তিস্তার একটি শাখা-নদী। বেড়িয়ে আসতে পারেন জোরথাং থেকেও। দক্ষিণ সিকিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর জোরথাং।

যাওয়ার পথ

শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস চত্বর থেকে জোরথাং যাওয়ার শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। জোরথাং থেকে জুম ৬ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে জুম ৯০ কিলোমিটার।

থাকার ব্যবস্থা

রাই হোমস্টে, ফোন ৮১৭০৯ ৪৮৪৫৮।

ইয়াংতে

পশ্চিম সিকিমের পেলিংয়ের কাছাকাছি ৬০০০ ফুট উচ্চতায় ইয়াংতে গ্রামটি সিকিমের প্রায় সদ্যপরিচিত একটি বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা। ইয়াংতেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার ব্যালকনি বললে অত্যুক্তি হবে না। শুধু তো কাঞ্চনজঙ্ঘা নয়, ইয়াংতে থেকে পাণ্ডিম, রাথোং, ফ্রে, কাব্রু ডোমের শৃঙ্গাবলীও দেখা যায়। ব্যস্ত পেলিংয়ের কাছাকাছি হলেও ইয়াংতে নিভৃতে থাকা এক শান্ত সৌন্দর্য। প্রাণ ভরে শ্বাস নেওয়া যায় এখানে।

এরকম পরিবেশে শান্ত, সমাহিত পেমায়ানসে মনাস্ট্রি খুব মানিয়ে যায়। এই মনাস্ট্রির প্রাচীণ চিত্রকলার সংগ্রহ দেশের মূল্যবান সম্পদ। কাছেই ঐতিহাসিক জায়গা রাবডেন্সে। সিকিমের দ্বিতীয় পূর্ববর্তী রাজধানী। এই রাবডেন্সে থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ মনে গেঁথে থাকে। ইয়াংতে
থেকে বেড়িয়ে আসা যায় পেলিং, রিম্বি জলপ্রপাত, কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাত, খেচিপেরি লেক।

যাওয়ার পথ

এন জে পি স্টেশন চত্বর বা শিলিগুড়ি থেকে গোটা গাড়ি ভাড়া করে ইয়াংতে চলে আসা যায়। শিলিগুড়ি থেকে শেয়ার গাড়িতে পেলিং এসে সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে ইয়াংতে আসা যেতে পারে। পেলিং থেকে ইয়াংতে ৯ কিলোমিটার। গ্যাংটক থেকে পেলিং যাওয়ার শেয়ার গাড়ি পাওয়া যাবে।

থাকার ব্যবস্থা

তাসিগং রিসর্ট, ফোন ৯৭৭৫৮ ২২৫২২, ৯৮৭৪৪ ৪০০০৩। নরবুলিংকা রিট্রিট, ফোন ৮১৪৫৭ ৩০১৮০।

চালামাথাং

সবুজ পাহাড়ের ঢেউ। উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা। অ্যালপাইন জঙ্গলে নানা জাতের পাখি। সিকিমের দক্ষিণাংশে চালামাথাং বেড়ানোর জায়গা হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে কিছুদিন হল। সিকিমের একমাত্র চায়ের বাগান টেমি টি গার্ডেন চালামাথাং থেকে ১৭ কিলোমিটার। কাছেই তারেভির। ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়-খাদের কিনার ধরে চলার পথ। সেই পথ ধরে চলতে চলতে পাহাড়, বিস্তৃত উপত্যকা, তিস্তা নদীর চলন দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। বেড়িয়ে আসা যায় রাবাংলা থেকেও।

যাওয়ার পথ

এন জে পি অথবা শিলিগুড়ি থেকে গোটা গাড়ি ভাড়া করে চালমাথাং চলে আসা যায়। এন জে পি বা শিলিগুড়ি থেকে শেয়ার গাড়িতে গ্যাংটক পৌঁছে সেখান থেকে পুরো গাড়ি ভাড়া করে চালমাথাং চলে আসা যাবে।

থাকার ব্যবস্থা

চালমাথাং হোমস্টে, ফোন ৯৯৩৩৩ ৬৭৬৮৩।

বিকস্থাং

পশ্চিম সিকিমের বিকস্থাং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ দেখে হতবাক হয়ে যেতে হয়। সবুজ, নিষ্কলুষ প্রকৃতির মধ্যে দাঁড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার সেই অপার্থিব দৃশ্য একটা আবিষ্কারের মতো। কাছাকাছি সিকিমের আরও দুটি নিরালা ভ্রমণ ঠিকানা রিনচেনপং ও কালুক।

রিনচেনপং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা-সহ বিভিন্ন পর্বত-শীর্ষের সমাহারে শায়েত বুদ্ধের অবয়বটি স্পষ্ট দেখা যায়। রিনচেনপংয়ের মনাস্ট্রিটি অবশ্য দ্রষ্টব্য। মনাস্ট্রির অভ্যন্তরে বুদ্ধের মূর্তিটি দেখার সুযোগ পেলে তো খুবই ভালো। এমন যুগল মূর্তি সচরাচর দেখা যায় না। একটা গাড়ি ভাড়া করে দেখে আসতে পারেন পেলিংয়ের আশেপাশের পুরনো সব মনাস্ট্রি, কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাত, সিংসোর ব্রিজ। আর বিকস্থাংয়ের শুদ্ধ পরিবেশে আপনার শরীর-মন যে চাঙ্গা হয়ে উঠবে সে কথা বলা চলে নিশ্চিত ভাবেই।

যাওয়ার পথ

শিলিগুড়ি থেকে জোরথাং যাওয়ার শেয়ার গাড়ি পাওয়া যাবে। জোরথাং থেকে শেয়ার গাড়িতে বা পুরো গাড়ি ভাড়া করে বিকস্থাং চলে আসা যাবে। জোরথাং থেকে বিকস্থাং ৩০ কিলোমিটার।

থাকার ব্যবস্থা

বিকস্থাং হেরিটেজ ফার্মহাউস, ফোন ৯৫৯৩৭ ৭৯০৭৭। দি ব্লিস ভিলেজ রিসর্ট, ফোন ৭৭৯৭৮ ৬৭৮৮৮।

সিনঘিক

উত্তর সিকিম জেলার প্রধান শহর মঙ্গন। এই মঙ্গন থেকে সিনঘিক ৪ কিলোমিটার। গ্যাংটক থেকে সিনঘিক ৫৬ কিলোমিটার। ৫১২০ ফুট উচ্চতায় সিংঘিক থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, মাউন্ট সিনিয়লচু, মাউন্ট পাণ্ডিম ও মাউন্ট কাব্রু ও সেইসঙ্গে সবুজ উপত্যকার মধ্যে দিয়ে তিস্তা নদী-প্রবাহের অপরূপ দৃশ্য সহজে ভোলবার নয়। উত্তর সিকিমের এই অঞ্চলটিতে লেপচা জনজাতির বসবাস। লেপচাদের ঘরবাড়ি, তাঁদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখা যায় সিংঘিকে দুটো দিন কাটালে। সিনঘিকের তেনসং মনাস্ট্রিটিও দেখতে হবে। বেড়িয়ে আসতে পারেন চার কিলোমিটার দূরের ছোট্ট ও শান্ত এলাকা মঙ্গন থেকে। যেতে পারেন সিনঘিক থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের লেপচা-অধ্যুষিত জংগু উপত্যকায়। সেভেন সিস্টারস ফলস সিনঘিক থেকে গাড়িতে ঘন্টাখানেকের পথ।

সিনঘিকের পাশ দিয়ে উত্তর সিকিম হাইওয়ে চুংথাং হয়ে গেছে লাচুং ও লাচেনের দিকে। লাচুং থেকে ইয়ুমথাং ভ্যালি ও লাচেন থেকে গুরুদোংমার বেড়াতে যাওয়া হয়। সিনঘিক থেকে লাচুং ৪৭ ও লাচেন প্রায় ৫২ কিলোমিটার। লাচুং বা লাচেনে একটা রাত কাটিয়ে পরের দিন সকালে ইয়ুমথাং বা গুরুদোংমার যাওয়াই দস্তুর।

যাওয়ার পথ

গ্যাংটক থেকে সিংঘিক ৫৬ কিলোমিটার। এন জে পি স্টেশন থেকে সিনঘিক ১৪৪ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি বা এন জে পি থেকে শেয়ার গাড়িতে গ্যাংটক পৌঁছে সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া ৫৬ কিলোমিটার দূরের সিনঘিক পৌঁছে যেতে পারেন। চাইলে গ্যাংটক থেকে শেয়ার গাড়িতেও সিনঘিক যাওয়া যেতে পারে। আর এন জে পি বা শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি সিনঘিক পুরো গাড়ি ভাড়া করে তো আসাই যায়।

থাকার ব্যবস্থা

সিনঘিক টুরিস্ট বাংলো, ফোন ৯৬৩৫৮ ৩৯৯৩৯, ৯৮১৮৮ ২৭৭২০।
লাজোমলা হোমস্টে, ফোন ৮৪৩৬২ ৮২৮৫৯, ই-মেলঃ lazomlahomestay@gmail.com আমা হোমস্টে, ফোনঃ ৯৬০৯৮ ১২৪৯৮।

বোরং

দক্ষিণ সিকিম জেলায় ৫৮০০ ফুট উচ্চতায় দুর্দান্ত সব পাহাড়-ঢাল, উপত্যকা, দূরে আকাশের গায়ে মাউন্ট পাণ্ডিম, মাউন্ট কাব্রু, মাউন্ট রাথং, এ সব নিয়ে এক স্বর্গরাজ্য বোরং। অরণ্যে ঘেরা বোরংয়ে নানা পাখির দেখা পাওয়া যাবে। বোরং রাবাংলা থেকে ১৭ কিলোমিটার। প্যাচানো রাস্তা ধরে বোরং যাত্রার সময়েই পরতে পরতে খুলতে থাকবে পাহাড়ের সৌন্দর্য। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে মেনাম পাহাড়ে ট্রেকিং এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। বোরং থেকে রাবাংলায় এসে মেনাম ট্রেক করা সহজ হবে। বোরং থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে রঙ্গীত নদীর তীরে উষ্ণ পস্রবন বোরং সাচু দেখে আসা যায়। কাছাকাছি তিব্বতী রালং মনাস্ট্রিতে দেখা যাবে অসাধারণ সব থাঙ্কা। পুরনো ও নতুন, দুটি মনাস্ট্রিই দেখবার মতো। বোরং থেকে রালং মনাস্ট্রি ৫ কিলোমিটার। বোরং থেকে দিনে দিনে বেড়িয়ে নেওয়া যায় রাবাংলা ও নামচি।

যাওয়ার পথ

এন জে পি বা শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি বোরং প্রায় ৬ ঘন্টার যাত্রা। সরাসরি প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যাবে। এন জে পি বা শিলিগুড়ি থেকে রাবাংলা যাওয়ার শেয়ার গাড়ি পাওয়া যেতে পারে। এন জে পি বা শিলিগুড়ি থেকে শেয়ার গাড়িতে গ্যাংটক এসে সেখান থেকে পেলিংগামী শেয়ার গাড়িতে রাবাংলা পৌঁছানো যায়। গ্যাংটক থেকে রাবাংলা ৬৮ কিলোমিটার। রাবাংলা থেকে প্রাইভেট গাড়িতে বোরং পৌঁছাতে হবে।

থাকার ব্যবস্থা

অশ্বিন হোমস্টে, ফোন ৭৩৬৪৮ ৬৮২২৩। বোরং নেচার ক্যাম্প, ফোন ৮৯০২১ ১৫৬৪৭। বোরং-পোলক ভিলেজ হোমস্টে, ফোন ৯৭৩৫৯ ১৭৫৯১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *